মদ পাচার রুখতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! ট্রাক চালককে ধরে নিয়ে আসার সময় ধুন্ধুমার, গুলিবিদ্ধ দুই মূল অভিযুক্ত

মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলার খাটেগাঁওয়ে এক পুলিশ আধিকারিককে ট্রাক দিয়ে পিষে খুন করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল পুলিশ। মদ পাচারকারী চক্রকে ধরতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হন খাটেগাঁও থানার এসএইচও দিলীপ পুরী। রবিবার গভীর রাতে ইন্দোর-বেতুল জাতীয় সড়কে ১৮০০ লিটারেরও বেশি অবৈধ মদ বহনকারী একটি ট্রাক আটকাতে গেলে ওই পুলিশ অফিসারকে পিষে মেরে পালিয়ে যায় চালক। ঘটনার পরেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে তল্লাশি শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত ট্রাকচালক গজেন্দ্র রাওয়াত ওরফে আক্কুকে আলিরাজপুর থেকে গ্রেফতার করে দেওয়াসে ফিরছিল সিটের দল। সেই সময় রাজোদা ও বারোথার মাঝামাঝি জায়গায় পুলিশের গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে যায়। গাড়ি থামলে শৌচালয়ে যাওয়ার নাম করে এক এএসআই-এর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে গজেন্দ্র। পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরলে সে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি চালায়, যার ফলে অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে। বর্তমানে সে দেওয়াস জেলা হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত অপর অভিযুক্ত তথা ট্রাকের খালাসি ধীরজকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেওয়াস শহরের পুলিশ সুপার সুমিত আগরওয়াল জানান, ধীরাজকে বিএনপি থানা এলাকা থেকে হেফাজতে নিয়ে আসার সময় সেও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পুলিশ আধিকারিকের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে সে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ বারবার সতর্ক করলেও সে তা উপেক্ষা করায় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। ধীরাজের ডান পায়ে গুলি লাগলে তাকেও দ্রুত দেওয়াস জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, উভয় ক্ষেত্রেই আইনসম্মতভাবে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছে। অভিযুক্তদের চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কেউ মদত জুগিয়েছিল কিনা এবং ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র কোথা থেকে এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই দুই পৃথক এনকাউন্টারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।