“একটা বাজি ফাটানোও দেশবিরোধী!” দীপাবলির মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য আলিয়ার মায়ের

দীপাবলির দূষণ এবং বাজি ফাটানো নিয়ে সারা দেশজুড়ে যখন বিতর্ক চরমে, ঠিক তখনই আগুনে ঘি ঢাললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা আলিয়া ভাটের মা সোনি রাজদান। বায়ুদূষণের মারাত্মক দাপটে শিশুদের শারীরিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—বর্তমানে এমন পরিস্থিতিতে একটি মাত্র বাজি ফাটানোও চরম অন্যায় এবং তা সরাসরি ‘অ্যান্টি-লাইফ, স্বাস্থ্যবিরোধী এবং দেশবিরোধী’। দিয়া মির্জাকে কেন্দ্র করে বিএমসি-র বিজ্ঞাপনী বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই সোনির এই চাঁচাছোলা ও বিস্ফোরক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পুরো বিতর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে সোনি রাজদান লেখেন, “কোনও ছোট বাচ্চার বাবা-মা-কে জিজ্ঞাসা করলেই তাঁরা বলবেন, বায়ুদূষণের কারণে তাঁদের সন্তানরা কতটা কষ্ট পাচ্ছে। অসুস্থতার কারণে তারা কতগুলো স্কুলের দিন মিস করছে! তাই এই পরিস্থিতিতে কেউ যদি এসে আমাকে বলেন যে দীপাবলিতে একটাও বাজি ফাটানো একদম স্বাভাবিক ব্যাপার, তবে আমি বলব—এটা স্পষ্টতই জীবন বিরোধী, স্বাস্থ্যবিরোধী এবং হ্যাঁ… দেশ বিরোধী ব্যাপার। স্বাস্থ্য আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের জন্য নিজেদেরই বেছে নিতে হয়। আসুন সঠিক সিদ্ধান্ত নিই।”
সোনি রাজদানের এই মন্তব্য কিন্তু বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। মুম্বই পৌরসংস্থার (বিএমসি) দীপাবলি পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান নিয়ে অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝেই তাঁর এই বার্তা এল। বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দ ও বায়ুদূষণ রুখতে একটি সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরি করেছিল বিএমসি। সেখানে দিয়া মির্জা ছাড়াও মাধুরী দীক্ষিত, নিশিকান্ত ওয়াদ ও ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানে পরিবেশবান্ধব দীপাবলি পালনের বার্তা দেন। দিয়া মির্জার সেই ভিডিও প্রকাশ পেতেই আপত্তি তোলেন মুম্বই বিজেপির সভাপতি অমিত সাতম। তিনি প্রশ্ন তোলেন—পরম্পরা রক্ষার শিক্ষা দিয়া মির্জার থেকে নেওয়ার দরকার নেই। এরপরেই বিএমসি নিজেদের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে দিয়া মির্জার ভিডিও সরিয়ে নেয়।
ঘটনাটি আরও জটিল রূপ নেয় যখন মুম্বইয়ের মেয়র দিয়া মির্জাকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ ও ‘সরকার-বিরোধী’ বলে সরাসরি তোপ দাগেন। যদিও গোটা ঘটনায় দিয়া মির্জার পাশেই দাঁড়িয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের তরফে বিএমসি-কে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যাতে সমাজমাধ্যমে দিয়া মির্জার ভিডিওটি ফের আপলোড করা হয়। দিয়া মির্জার মুখ বন্ধ করার সেই চেষ্টার পরেই সোনি রাজদান আরও কড়া ভাষায় সুর চড়িয়ে গোটা বাজি-বিরোধী আন্দোলনকে নতুন অক্সিজেন দিলেন। তাঁর এই সাহসী ও স্পষ্ট মন্তব্য এখন দেশের রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল চর্চা।