রাডারে ধরা পড়বে না, গতি ম্যাক ৩.৫! ভারতের মারাত্মক অস্ত্র কিনতে এবার আগাম আগ্রহ প্রকাশ করল এই দেশ

ভারত থেকে সুপারসনিক ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনে দারুণ উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত দেশ ফিলিপাইন। ভারত-নির্মিত এই পরাক্রমশালী অস্ত্র অর্জনকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হতে পেরে তারা নিজেদের অত্যন্ত গর্বিত বলে মনে করছে। সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত জোসেল এফ. ইগনাসিও সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এই প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি, তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, ফিলিপাইন শুধু বর্তমান ব্রহ্মোসেই থেমে থাকতে চায় না, বরং তাঁরা অদূর ভবিষ্যতে ভারতের তৈরি পরবর্তী প্রজন্মের অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘ব্রহ্মোস এনজি’ (BrahMos-NG) ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও অত্যন্ত গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রদূত জোসেল এফ. ইগনাসিওর মতে, ঐতিহাসিক ব্রহ্মোস চুক্তিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ উন্নত ও নির্ভুল সমরপ্রযুক্তির প্রয়োজনে ফিলিপাইন যে দিল্লির ওপরই সম্পূর্ণ আস্থা রাখবে, তাঁর মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি এই ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র যেভাবে ফিলিপাইনের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশকে আকৃষ্ট করেছে, তা বিশ্ব ডিফেন্স মার্কেটে ভারতের বাড়তি শক্তিকেই তুলে ধরে। আর এই ধারাবাহিকতার পরবর্তী বড় ধাপ হতে চলেছে ‘ব্রহ্মোস নেক্সট-জেনারেশন’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প, যা বর্তমানে দ্রুত উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায় পার করে চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই প্রজেক্ট নিয়ে ইতিবাচক ও বড় কোনো ঘোষণা সামনে আসতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন।
উল্লেখ্য, ‘ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস’ (ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগ) কর্তৃক উদ্ভাবিত ও প্রস্তুত হতে চলা এই ‘ব্রহ্মোস-এনজি’ হলো বর্তমান প্রজন্মের এক ত্রাস সৃষ্টিকারী অস্ত্র। মূল ব্রহ্মোসের তুলনায় এই নতুন সংস্করণটি আকারে অনেক ছোট, ওজনে হালকা, কিন্তু প্রযুক্তির দিক থেকে বহু গুণে উন্নত এবং আধুনিক স্টিলথ ক্ষমতাসম্পন্ন। অর্থাৎ, এটি শত্রুর রাডারে সহজেই ধরা পড়বে না। যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন বা স্থলভিত্তিক লঞ্চার—সব মাধ্যম থেকেই এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। প্রাথমিকভাবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর মহাশক্তিশালী সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30 MKI) যুদ্ধবিমানের সঙ্গেই এটি যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওজনে হালকা ও আকারে ছোট হলেও গতি ও ক্ষমতার দিক থেকে এটি আগের যেকোনো সংস্করণের চেয়ে বহু গুণে মারাত্মক হতে চলেছে।
প্রতিরক্ষা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও রুশ সংবাদ সংস্থা টাস (TASS)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রহ্মোস-এনজি ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির প্রায় ৩.৫ গুণ অর্থাৎ ম্যাক ৩.৫ (Mach 3.5) পর্যন্ত অবিশ্বাস্য গতিবেগ অর্জন করতে সক্ষম হবে। এর ফলে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিমেষেই ফাঁকি দিয়ে এটি নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে পারবে। পাশাপাশি, এই অত্যাধুনিক মিসাইলের আঘাত হানার পাল্লাও ৩০০ কিলোমিটারের বেশি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বর্তমানে এই পরবর্তী প্রজন্মের মিসাইলের পরীক্ষামূলক কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সফল ট্রায়াল সম্পন্ন হওয়ার পরই এর প্রকৃত ও চূড়ান্ত গতি ও পাল্লার পরিসংখ্যানে সিলমোহর দেবে প্রস্তুতকারক সংস্থা। তবে ফিলিপাইনের মতো দেশের এই প্রকাশ্য আগ্রহ প্রমাণ করে যে, বিশ্বমানের সমরাস্ত্র উৎপাদনে ভারত আজ আন্তর্জাতিক বাজারে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে।