প্রধানমন্ত্রী মোদীই একমাত্র পরিবারবাদের ঊর্ধ্বে! ভারতের রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যে শোরগোল

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র এবং বংশবাদী রাজনীতির শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত, তা নিয়ে এবার এক চরম আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দেশের রাজনীতিতে কারা আসলে ‘২জি’, ‘৩জি’ এবং ‘৪জি’-র প্রতিনিধি, তা নির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করে তিনি দেশের পুরনো রাজনৈতিক দল ও পরিবারভিত্তিক দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বচ্ছ রাজনৈতিক অবস্থান ও তাঁর পারিবারিক পটভূমিকে সামনে এনে তাঁকে বংশবাদের সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে বলে দাবি করেছেন বিরোধী নেতা।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এই বিস্ফোরক বক্তব্যে জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর মতো কংগ্রেসের প্রথম সারির রাজনৈতিক পরিবারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান শেখ আব্দুল্লা ও ফারুক আব্দুল্লা, দক্ষিণ ভারতের ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন ও উদয়নিধি স্ট্যালিন, উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির মুলায়ম সিং যাদব ও তেজস্বী যাদব এবং বাংলার শাসকদলের পিসি-ভাইপোর প্রসঙ্গ টেনে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, এই রাজনৈতিক পরিবারগুলি বংশপরম্পরায় দল এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে, যার ফলে দলের অভ্যন্তরে সাধারণ ও মেধাবী রাজনৈতিক কর্মীদের এগিয়ে আসার রাস্তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই ‘জি’ বা জেনারেশনভিত্তিক তত্ত্ব প্রকারান্তরে রাজনৈতিক পরিবারগুলির উত্তরাধিকারের রাজনীতিকেই তুলে ধরেছে। যেখানে প্রথম প্রজন্ম থেকে শুরু করে চতুর্থ প্রজন্ম পর্যন্ত ক্ষমতার বৃত্ত আঁকড়ে থাকে, সেখানে গণতন্ত্রের মূল চেতনা এবং স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদী সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে যেভাবে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাকেই তিনি সুশাসনের একমাত্র মানদণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন। ভোটের বাজারে পরিবারবাদকে হাতিয়ার করে বিরোধী শিবিরকে কোণঠাসা করার এই রাজনৈতিক কৌশল জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।