ভারতের মহাজাগতিক প্রস্তুতি! যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলা রুখতে রাজনাথের মহা-প্ল্যান ফাঁস

আধুনিক ও একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশসীমার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক যুদ্ধ এখন বিস্তার লাভ করেছে মহাকাশ, সাইবার ও ডিজিটাল জগতেও। এই পরিবর্তিত সামরিক প্রেক্ষাপটে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মতো সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এখন ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমতাবস্থায় দেশকে প্রতিরক্ষায় সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার ডাক দিয়ে ৩রা নভেম্বর ‘দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগ ২০২৬’-এ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
তিনি স্পষ্ট জানান, একবিংশ শতাব্দীতে সামরিক প্রস্তুতির জন্য দেশীয় উৎপাদন এবং প্রযুক্তির স্বনির্ভরতা অপরিহার্য। আত্মনির্ভরশীলতার অর্থ বিশ্বের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে এক শক্তিশালী অংশীদার হওয়া। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়তে প্রতিরক্ষা সংস্কার, আত্মনির্ভরশীলতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি—এই চারটি স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী এএমসিএ (AMCA) যুদ্ধবিমান, প্রপালশন সিস্টেম, এটিএজিএস (ATAGS) কামান এবং যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের মতো মেগা কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ২০২৫ সালকে ‘সংস্কারের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। বর্তমানে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে পৌঁছাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে উৎপাদন ৩ লক্ষ কোটি টাকা এবং রপ্তানি ৫০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা।