এবার জাতীয় স্তরে চকমাবে চন্দননগরের আলোকশিল্প! ‘স্টেট ফেস্টিভ্যাল’-এর রূপায়ণে চন্দননগরে মন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘স্টেট ফেস্টিভ্যাল’ বা রাজ্য উৎসবের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই প্রথম বার চন্দননগরের বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজো হতে চলেছে এক অভূতপূর্ব স্কেলে। উৎসবকে সম্পূর্ণ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সর্বভারতীয় স্তরে আকর্ষণীয় করে তুলতে মঙ্গলবার চন্দননগরে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল উপস্থিত থেকে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা এই মেগা উৎসবের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকাঠামো নিয়ে রূপরেখা তৈরি করেন।

চন্দ্রিমা আলোকের বিশ্বজয় ও সরকারি অনুদানের ভাবনা: বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী আলোকশিল্পকে সর্বভারতীয় মানচিত্রে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের সরকারি বিভিন্ন বড় শো এবং কলকাতায় কাজের বরাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর মতো চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটিগুলিকেও কীভাবে সরকারি আর্থিক অনুদান ও সাহায্য দেওয়া যায়, তা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার।

চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা ও কড়া SOP: সম্প্রতি দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে চন্দননগরে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিছিদ্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, মণ্ডপগুলির প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করা হবে। আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো আপৎকালীন পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য প্রশাসন বিশেষ এসওপি (SOP) বা নির্দেশিকা জারি করছে।

দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মোতায়েন থাকবে মেডিকেল ক্যাম্প ও সরকারি সেবা শিবির। এছাড়া গঙ্গার ঘাটগুলিতে জোয়ার-ভাটার সময় জলের ওপর কড়া নজরদারি রাখবে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট ও জেলা প্রশাসন।

ডিজিটাল অ্যাপ ও লাইট হাব পরিদর্শণ: চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানান, দর্শনার্থী ও পুজো কমিটিগুলির সুবিধার্থে খুব শিগগিরই একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ লঞ্চ করা হবে। যার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা মণ্ডপের অবস্থান, যাতায়াতের রুট এবং সরকারি সহায়তার সমস্ত তথ্য এক ক্লিকেই পেয়ে যাবেন।

এদিনের বৈঠকে পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর মন্ত্রী ও আধিকারিকরা গঙ্গার নিরঞ্জন ঘাট ও একাধিক বড় পুজো মণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। আগামী ১৯ নভেম্বর ঐতিহ্যবাহী মেগা শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের চন্দননগরের উৎসব।