১৬০ মিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপনী ঝড় বনাম ডেমোক্র্যাট ঢেউ! যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বদলের মহা-লড়াই শুরু

প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়টা কীভাবে কাটবে, তা নির্ধারণ করতেমঙ্গলবার আমেরিকা জুড়ে কোটি কোটি ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিভিন্ন পদে হাজার হাজার জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হলেও গোটা বিশ্বের নজর আটকে রয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ— প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives) ও সেনেট (Senate)-এর ফলাফলের দিকে। বর্তমানে এই দুটি কক্ষই ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে। ফলে, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের সাফল্য বা ব্যর্থতা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) চরম ফলাফলের ওপর।

The Indian Express+ 1

জনপ্রিয়তায় ধস ও ট্রাম্পের জন্য কঠিন পরীক্ষা: প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থনে ঘাটতি দেখা দেওয়াতেই কংগ্রেস পুনরুদ্ধারের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সামনে। জনমত জরিপ বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সিলভার বুলেটিন’-এর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৫০ শতাংশের বেশি থাকলেও তা দ্রুত কমতে শুরু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাঁর জনসমর্থন বর্তমানে নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশে।

United States Studies Centre

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের এই একই সময়ে যেখানে জনসমর্থন ছিল ৪৩ শতাংশ এবং জো বাইডেনের সময় ছিল ৪০ শতাংশ, সেখানে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক জনপ্রিয়তার হ্রাস ডেমোক্র্যাট শিবিরকে অত্যন্ত আশাবাদী করে তুলেছে।

প্রতিনিধি পরিষদে সূক্ষ্ম ব্যবধানের লড়াই:মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। ২১৮ জন সদস্য নিয়ে তারা কোনোক্রমে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। নভেম্বরের এই নির্বাচনে ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ চলছে। পলিটিক্যাল বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্যে মাত্র ১৮টি আসনে তীব্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল নিম্নকক্ষে আসন হারায়। ১৯৩৪ সাল থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনেই হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ হিসেবে ক্ষমতাসীন দল গড়ে ২৭টি আসন হারিয়েছে।

The Indian Express+ 2

সেনেটের গুরুত্বপূর্ণ ময়দান:সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ৫৩টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে রয়েছে ৪৫টি (সঙ্গে ২ জন স্বতন্ত্র)। নিয়ম অনুযায়ী, ছয় বছরের মেয়াদের জন্য সেনেটররা নির্বাচিত হওয়ায় প্রতি দু-বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে টেক্সাস, আলিয়াস্কা বা ওহাইওর মতো ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান দুর্গেও ডেমোক্র্যাটরা বড়সড় চমক দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

The Indian Express

ভোটের মূল ইস্যু: আকাশছোঁয়া খরচ ও ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প নির্বাচনের আগে ‘মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ’ ও ‘আমেরিকাকে সাশ্রয়ী’ করার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধিই ভোটারদের প্রধান অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে গ্যাসের দাম কম হওয়ার দাবি করার কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জ্বালানির দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধ ও অর্থনীতি সামলাতে ট্রাম্পের ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি ও অভিবাসন নীতিও এই নির্বাচনের অন্যতম বড় নির্ণায়ক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

The Indian Express

বিপুল অর্থ ও বিজ্ঞাপনী লড়াই: জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকলেও রিপাবলিকানদের প্রধান শক্তি হলো তাদের বিশাল রাজনৈতিক তহবিল। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) রাজনৈতিক তহবিলের ১৬০ মিলিয়ন ডলারসহ রিপাবলিকানদের হাতে বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় কোটি কোটি ডলার বেশি নগদ অর্থ রয়েছে। সেই বিপুল অর্থ দিয়ে শেষ মুহূর্তে মার্কিন ভোটারদের কাছে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের বিজ্ঞাপনী প্রচার চালানো হয়েছে।

আমেরিকান জনগণ কি ট্রাম্পের ওপর আস্থা বজায় রাখবে, নাকি ডেমোক্র্যাটদের হাত ধরে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে— সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের চাবিকাঠি কার হাতে যায়, তা দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা বিশ্ব।