উত্তরবঙ্গের জন্য মেগা মাস্টারপ্ল্যান! চা শ্রমিক থেকে কামতাপুরী ভাষা— প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক ধামাকা সিদ্ধান্ত

উত্তরবঙ্গের চা বাগান এলাকার কোটি কোটি শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া সমস্যা সমাধানে এবার ঐতিহাসিক ও একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শ্রমিকদের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে রেশনের চাল একধাক্কায় বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি এককালীন আর্থিক সহায়তা ও বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলি ফের চালু করার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সম্পূর্ণ বিষয়টির তদারকি ও কাজের অগ্রগতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংকে।

রেশনের চাল ও নগদ সাহায্য: উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক মেগা প্রশাসনিক বৈঠকে চা বাগান এলাকার সার্বিক সমস্যা ও শ্রমিকদের নানা দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বর্তমানে চা শ্রমিক পরিবারগুলি রেশনে যে ৩৫ কেজি চাল পেয়ে থাকেন, তা বাড়িয়ে প্রতি মাসে সরাসরি ৫০ কেজি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য ৫ হাজার টাকার বিশেষ এককালীন আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে দীপাবলি ও উৎসবের মরসুমে চা বলয়ের পরিবারগুলি বিপুল স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বন্ধ চা বাগান খোলা ও সরকারি সুবিধা: উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যা হলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা বেশ কিছু চা বাগান। এই জটিল পরিস্থিতি বদলাতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে বন্ধ বাগানগুলি দ্রুত সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে হাজার হাজার কাজ হারানো শ্রমিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হবে। পাশাপাশি যোগ্য শ্রমিকদের জব কার্ড প্রদান এবং ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’র মতো জনকল্যাণমূলক সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও ভাষা বিতর্ক: কেবল চা বাগানই নয়, এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিকাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য এক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর সম্ভাব্য দিন হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। অপরদিকে, কামতাপুরী ভাষাকে ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (8th Schedule) অন্তর্ভুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন জমা দেন।

চা শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সম্মান— সব মিলিয়ে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের এক নতুন রূপরেখা তৈরি হলো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।