জনশূন্য কনট প্লেস, সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়! যন্তর মন্তরের আন্দোলন কি তবে এবার বন্ধ হতে চলেছে?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানী দিল্লির রাজপথে সরব কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তবে উৎসবের মরশুমে সেই প্রতিবাদ ও টানা আন্দোলনের জেরে সাধারণ জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত স্তব্ধ হওয়ার জোগাড়। এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট ও কড়া অবস্থান ব্যক্ত করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করার অধিকার দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অন্য কারও ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা স্বাভাবিক জীবনধারণের অধিকারকে কেড়ে নেওয়া যায় না।

ব্যবসায়ীদের পিটিশন ও কনট প্লেসের স্তব্ধতা: দিল্লির কিরানা কমিটি-সহ একাধিক বণিক সংগঠন শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করে প্রতিবাদ বন্ধের আর্জি জানায়। বণিকদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি শুনানিতে দাবি করেন, দীর্ঘদিনের এই আন্দোলনের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় কেনাকাটার ভরপুর মরশুমে দিল্লির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কনট প্লেস কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার ৩ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতের কাছে এই দুটি পরস্পরবিরোধী অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “কাউকে প্রতিবাদ জানানোর অনুমতি দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য সেই জায়গা আটকে রাখবেন। দেশের অন্য নাগরিকদেরও জীবিকা ও অধিকার রক্ষা করা আদালতের দায়িত্ব।”

আদালতে যুক্তির লড়াই ও প্রতিবাদের সীমা: শুনানিকালে তৃণমূল সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী দাবি করেন, প্রতিবাদস্থল রামলীলা ময়দানে হিংসার কোনও ঘটনা ঘটেনি, তাই আন্দোলন বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অন্য এক আইনজীবী তুলে ধরেন যে খোদ পুলিশকর্মীরাও যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

তবে এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, ১ দিনের অনুমতি নিয়ে বিরোধীরা টানা ১৭ দিন যন্তর মন্তর অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন এবং সংসদ অভিযানের চেষ্টাও করা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটি নির্দিষ্ট পক্ষ এভাবে দিনের পর দিন জায়গা দখল রাখলে কৃষক বা সাংবাদিকরা নিজেদের দাবি জানাতে কোথায় যাবেন? সবারই প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা হওয়া প্রয়োজন।”

উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বণিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী দুই মাসের জন্য উৎসবের মরশুমে বিক্ষোভের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানানো হয়। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর রাজধানীর রাজনীতির এই উত্তপ্ত আবহে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়।