মাধ্যমিকে বিরাট বদল! জনগণনার ধাক্কায় কি পিছিয়ে গেল ২০২৭-এর পরীক্ষার সূচি?

২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা মহলে এক বড়সড় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত জনগণনার কাজ। আর এই বৃহৎ সরকারি প্রক্রিয়ার জেরে শেষ পর্যন্ত পেছনের দিকে সরে যাচ্ছে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রচলিত সূচি। যেহেতু এই জাতীয় জনগণনার কাজে বিপুল সংখ্যক স্কুলশিক্ষককে সরাসরি যুক্ত থাকতে হয়, তাই পরীক্ষার ভরা মরসুমে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিদর্শক পাওয়া নিয়ে তীব্র প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই সমস্ত সম্ভাব্য সমস্যা ও শিক্ষক সংকট এড়াতেই পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের জোরালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পর্ষদ সূত্রে অত্যন্ত বিশ্বস্তভাবে জানা গিয়েছে যে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই সারা দেশ জুড়ে শুরু হবে জনগণনার প্রথম পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের কাজ। এই মেগা কর্মযজ্ঞ চলবে একেবারে ১ মার্চ পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই, ফেব্রুয়ারি মাসের ঐতিহ্যবাহী সময়ে পরীক্ষা পরিচালনা করা হলে কেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক বা ইনভিজিলেটর মোতায়েন করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। এই প্রশাসনিক জটিলতা ও সংকট এড়াতে পর্ষদ সভাপতি ড. রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় গত ২ নভেম্বর রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে নতুন ও পরিবর্তিত সূচির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

পর্ষদের পেশ করা প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা মার্চ মাসের প্রথম দিক থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত তারিখগুলি হলো—২ মার্চ প্রথম ভাষা, ৩ মার্চ দ্বিতীয় ভাষা, ৫ মার্চ ইতিহাস, ৮ মার্চ ভূগোল, ১২ মার্চ গণিত, ১৩ মার্চ ভৌতবিজ্ঞান, ১৫ মার্চ জীবনবিজ্ঞান এবং ১৬ মার্চ ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা।

সূচি বদলের এই বিশাল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং উচ্চমাধ্যমিকের সেমিস্টার পদ্ধতির পরীক্ষার দিনক্ষণের সঙ্গে যাতে কোনোভাবেই সময়ের সংঘাত বা ওভারল্যাপ না ঘটে, সেদিকে বিশেষ ও কঠোর নজর রাখা হয়েছে। তবে পর্ষদ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এটি এই মুহূর্তে একটি সম্পূর্ণ প্রস্তাবিত সূচি মাত্র। রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন ও সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই এই নতুন সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।