পরিবেশের পক্ষে বলায় কোন অভিনেত্রীকে বলা হলো ‘হিন্দু-বিরোধী’? বোম্বে হাইকোর্টের এক রায়ে উল্টে গেল সমস্ত খেলা!

বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার পরিবেশ সচেতনতামূলক একটি ভিডিও মুছে ফেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে এবার ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত কড়া হস্তক্ষেপ করল বোম্বে হাইকোর্ট। দীপাবলির মরসুমে বাজি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট মারাত্মক বায়ু ও শব্দ দূষণ এড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) একটি বিশেষ প্রচারাভিযান চালিয়েছিল। সেই দূষণমুক্ত দীপাবলি অভিযানের অংশ হিসেবেই অভিনেত্রী দিয়া মির্জার একটি সচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ভিডিও ঘিরেই বাঁধে তীব্র রাজনৈতিক গোলযোগ।
মুম্বই বিজেপি সভাপতি অমিত সাতাম এই ভিডিওটির তীব্র আপত্তি জানান এবং এর পরেই বিতর্ক আরও বাড়িয়ে মুম্বাইয়ের তৎকালীন মেয়র প্রকাশ্যেই অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে বিএমসি কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অত্যন্ত তড়িঘড়ি সেই ভিডিওটি মুছে ফেলতে বাধ্য হয়। তবে বিএমসির এই দ্বিমুখী নীতি ও রাজনৈতিক দাদাগিরির খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। আর তাতেই মারাত্মক ক্ষুব্ধ হয় বোম্বে হাইকোর্ট।
শুনানির সময় বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি এবং বিচারপতি ডঃ নীলা গোখালের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, কিছু উগ্র রাজনৈতিক নেতার এহেন সংকীর্ণ মন্তব্য ও আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অস্বস্তিকর। আদালত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, “ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ,” এবং পরিবেশ রক্ষার মতো একটি পবিত্র বিষয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য রাজনীতিকদের তীব্র তিরস্কার করেছে হাইকোর্ট।
শুধু তাই নয়, বাজি থেকে সৃষ্ট মারাত্মক বায়ুদূষণ নিয়ে অভিনেত্রী দিয়া মির্জার এই সচেতনতামূলক বার্তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে আদালত। বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, খোদ আদালতের নির্দেশেই যখন এই ধরনের সচেতনতামূলক ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল, তখন এই প্রচারাভিযানে দিয়া মির্জার মতো একজন বিশিষ্ট নাগরিকের অংশগ্রহণের তীব্র বিরোধিতা কেন করা হলো? মামলার শুনানিকালে বিচারপতি নীলা গোখলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “এটি একটি সম্পূর্ণ পরিবেশগত এবং বৈজ্ঞানিক বিষয়… একে দয়া করে অন্য কোনো রাজনৈতিক রঙ দেবেন না… মনে রাখবেন, সমাজের প্রতিটি মানুষই একই বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে।” পরিবেশ রক্ষার মতো একটি সর্বজনীন ও জনস্বার্থের বিষয়কে খাটো করার চেষ্টা করায় বিএমসিকে অবিলম্বে সেই মুছে ফেলা ভিডিওটি তাদের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সসম্মane পুনরায় আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট।