‘শীতে পদ্ম ফোটে না!’ অপারেশন লোটাস নিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে জম্মু-কাশ্মীরে কিসের ঝড়?

জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতি বর্তমানে চরম উত্তপ্ত ও স্পর্শকাতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের (NC) মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ঠিক পরেই দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও মতপার্থক্যের খবর রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর ওপর দলের হেভিওয়েট বিধায়ক তথা শ্রীনগরের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহেদীর পদত্যাগ ও দল ছাড়ার জল্পনা এই রাজনৈতিক আবহাওয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে ও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর করা ‘পদ্মফুল’ সংক্রান্ত ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
আজকাল জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে খুব শীঘ্রই লোকসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন প্রবীণ নেতা আগা রুহুল্লাহ মেহেদী। সুযোগ পেলেই তিনি দল ছাড়তে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত ও চূড়ান্ত রাজনৈতিক বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে রুহুল্লাহর পদত্যাগের জল্পনা নিয়ে মুখ খুলে উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরেন্দ্র চৌধুরী বিদ্রূপের সুরে বলেন, “পদ্মফুলেরও একটি নির্দিষ্ট ঋতু আছে, আর তা কখনই শীতকালে ফোটে না। যদি কেউ জোর করে এই মরসুমে পদ্ম ফোটাতে যায়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই শুকিয়ে যাবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার কথিত ‘অপারেশন লোটাস’ প্রচেষ্টার প্রতিই এটি একটি অত্যন্ত শ্লেষাত্মক কটাক্ষ।
আগা রুহুল্লাহর সম্ভাব্য পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সুরেন্দ্র চৌধুরী অত্যন্ত কৌশলী উত্তর দিয়ে জানান, রুহুল্লাহ সাহেবের নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এবং সরকারেরও নিজস্ব কর্মপদ্ধতি আছে। তিনি একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতা, তাই নিজের ভালো-মন্দ তিনি নিজেই ভালো বোঝেন। রুহুল্লাহ দল ছাড়লে দলের কতটা ক্ষতি হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি রহস্য জিইয়ে রেখে বলেন, “তিনি তো এখনও দল ছাড়েননি। এখন তো সবে সকাল হয়েছে, এরপর সারাদিনে কী ঘটে, তা সময়ই বলে দেবে।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা রাম মাধবের সাম্প্রতিক জম্মু সফর নিয়েও তীব্র উপহাস করতে ছাড়েননি উপ-মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হালকা চালে বলেন, “তিনি সম্ভবত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতেই এখানে আসছেন। যদি তাঁর সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য থাকে, তবে দয়া করে আমাকে আগে থেকেই জানাবেন।” দলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের খবর সরাসরি খারিজ করে সুরেন্দ্র চৌধুরী দাবি করেন যে, ন্যাশনাল কনফারেন্স একটি আদর্শনিষ্ঠ কর্মী-ভিত্তিক দল। এখানে প্রতিটি সাধারণ কর্মীর মতামতকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়।
যেকোনো নেতাকর্মীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সুযোগ থাকলে যে কেউ দলের অভ্যন্তরে নিজের মতামত জানাতে পারেন। যেখানে শাসন ব্যবস্থায় বা সংগঠনে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে তা অবশ্যই সংশোধন করা হবে। তবে চূড়ান্ত এবং শেষ সিদ্ধান্ত সর্বদা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। অসন্তুষ্ট বিধায়কদের সঙ্গে কোনো গোপন বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও সুরেন্দ্র চৌধুরীর এই বার্তা স্পষ্ট যে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অসন্তোষ মেটাতে আলোচনার দরজা সবসময় খোলা রাখতে চায়।