৪ বছর নয়, এবার চাকরি ৬ বছরের! অগ্নিপথ যোজনায় ঐতিহাসিক বদল আনল কেন্দ্র

ভারতের সামরিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত অগ্নিবীরদের চাকরি ও সেবার মেয়াদ এক ধাক্কায় দুই বছর বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে এতদিন নির্ধারিত থাকা চার বছরের চাকরির সময়সীমা বেড়ে মোট ছয় বছর হতে চলেছে। সরকারের এই নতুন নীতির আওতায় অতিরিক্ত এই মেয়াদকালকে ‘সেকেন্ড ট্যুর অফ ডিউটি’ হিসেবে নামাঙ্কিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অগ্নিপথ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম যে ব্যাচটি নিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের চার বছরের প্রাথমিক কার্যকাল চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ হতে চলেছে। সরকারের পূর্বনির্ধারিত নীতি অনুযায়ী, মোট সৈন্যের ২৫ শতাংশকে স্থায়ী বা পাকা চাকরি দেওয়ার কথা ছিল এবং বাকি ৭৫ শতাংশের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাকি সেই ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরদের জন্যও বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল কেন্দ্র। তাঁদের চাকরি বাতিলের পরিবর্তে অতিরিক্ত আরও দুই বছরের এক্সটेंशन বা কাজের সুযোগ দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করেছেন দেশের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এন এস রাজা সুব্রহ্মণ্যের। তিনি মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে জানান যে, আজকের দিনটি দেশের সমস্ত অগ্নিবীরদের জন্য এক অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও গর্বের দিন। স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, ২০২০ সালের ১৪ জুন অগ্নিবীর যোজনা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছিল। গত চার বছর ধরে একটানা এই জওয়ানদের কাজের পারফরম্যান্স, দক্ষতা এবং শৃঙ্খলা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগেকার নিয়ম অনুযায়ী যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ জওয়ানরাই নিয়মিত সৈনিক হিসেবে নির্বাচিত হতেন এবং বাকিদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যেত, সেখানেই এবার আমূল পরিবর্তন আনা হলো। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাকি থাকা ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরদের আরও দুই বছর সেনাবাহিনীতে নিজেদের সেবা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এই অতিরিক্ত দুই বছরের মেয়াদ সফলভাবে সম্পূর্ণ করার পর ওই সমস্ত অগ্নিবীরদের পুনরায় মূল ধারার নিয়মিত জওয়ান বা রেগুলার সৈনিক হিসেবে যোগ দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ প্রদান করা হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে দেশের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান যেমন সুনিদৃঢ় হলো, তেমনই জাতীয় সুরক্ষার ভিত আরও বেশি মজবুত হবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।