মার্কিন নির্বাচনের রাতেই বড় হামলার ছক কষছে রাশিয়া! খেরসনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে হু হু করে বাড়ল মৃতের সংখ্যা

দক্ষিণ ইউক্রেনের একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র এবং আশ্রয় শিবিরে সোমবার বিধ্বংসী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন সাধারণ মানুষ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ পোস্টে জানান যে, প্রথমে কোমিশুভাখা গ্রামের একটি স্কুল ভবনে হামলা চালায় রুশ সেনা, যেখান থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ করা হতো। এরপরেই সরাসরি একটি আশ্রয় শিবিরে হামলা চালানো হয়। জেলেনস্কির দ্ব্যর্থহীন দাবি, এই পৈশাচিক আক্রমণগুলি প্রমাণ করে যে মস্কো কোনোভাবেই যুদ্ধ থামানোর পক্ষপাতী নয়।
মূলত খারসন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ সোমবারই শেষ হয়েছে। এর ঠিক পরেই দক্ষিণ ইউক্রেনের কোমিশুভাখা গ্রামে এই নৃশংস বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। রুশ অধিকৃত এলাকায় এতদিন যুদ্ধক্ষেত্রে সীমিত সংঘর্ষবিরতির সুবাদে আটকে থাকা মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ চলত। কিন্তু সেই সুযোগ বন্ধ হতেই নতুন করে রক্তপাত শুরু হয়েছে। এই হামলার পরে সন্ধের দিকে কোমিশুভাখা গ্রামে জরুরিকালীন উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান এবং ধসে পড়া বাড়িঘরের স্তূপে ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ২০ জনের খোঁজ না মেলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সন্ধের দিকে ওই একই এলাকায় ফের রুশ ড্রোন হানা দেওয়ায় উদ্ধারকাজ তীব্রভাবে ব্যাহত হয়। অন্যদিকে ইউক্রেনের অন্য একটি অঞ্চলেও পরপর ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন জখম হয়েছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে এক রহস্যময় সাইবার হামলা। রবিবার রাতের দিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশের বাসিন্দাদের সরকারি মোবাইল অ্যাপে হঠাৎ করেই জরুরি সতর্কবার্তা (Emergency Alert) পৌঁছায়। ইউক্রেনে পাঠানো ওই সতর্কবার্তায় সরাসরি পারমাণবিক হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। পরে দুই দেশের প্রশাসনই নিশ্চিত করে যে সরকারি অ্যাপগুলি হ্যাক করা হয়েছিল। একটি রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলের দাবি, ‘হিটকোর’ নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ ইউক্রেনের অ্যাপে এই সাইবার হানার দায় স্বীকার করেছে।
এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে হাতিয়ার করে রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, গোটা বিশ্ব যখন মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকবে, সেই সুযোগেই ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্স ও জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে বড় আঘাত হানতে পারে মস্কো। বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বাণিজ্যের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন জেলেনস্কি।