দেশের বাজারে নতুন সংকট? ১.১ লক্ষ কোটি রাজস্ব ক্ষতির পর খরচ ছাঁটাইয়ের চরম পথে হাঁটছে কেন্দ্র!

২০২৬-২৭ অর্থবছরে (FY27) ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রাজকোষ ঘাটতি বা ফিসক্যাল ডেফিসিট বাজেটের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে প্রায় ১.২ লক্ষ কোটি টাকা বেড়ে যেতে পারে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গবেষণা শাখা ‘এসবিআই রিসার্চ’-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্টে এমনই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মূলত জাতীয় স্তরে খাদ্য ও খাদ্যশস্যের সার খাতে বিপুল সরকারি ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং আবগারি শুল্ক ছাঁটাইয়ের ফলে কর আদায় অনেকটাই কমে যাওয়ার কারণে সরকারের কেন্দ্রীয় কোষাগারে এই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজকোষ ঘাটতি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) ৪.৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছতে পারে, যেখানে কেন্দ্রীয় বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ৪.৩ শতাংশে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এসবিআই রিসার্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ২০২২-২৩ সালের নতুন ভিত্তিবর্ষ ধরে কষা এই হিসাব কাঠামোগত পরিবর্তন ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সার্বিক প্রতিফলন। কেন্দ্র সরকার জ্বালানি পণ্যে আবগারি শুল্ক হ্রাস করায় প্রায় ১.১ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি কৃষি সারে অতিরিক্ত ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং রান্নার গ্যাস (LPG) ও পেট্রোলিয়ামে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বিপুল ভর্তুকি মেটাতে গিয়ে সরকারি খরচের চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই বর্ধিত ঘাটতি মেটাতে গিয়ে সরকারকে বাজার থেকে নতুন করে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হবে না। এসবিআই রিসার্চ জানিয়েছে, সরকারের হাতে থাকা উদ্বৃত্ত নগদ অর্থ এবং কৌশলগত খরচ কমানোর (Cost Cutting) নীতি প্রয়োগ করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিগত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সরকার প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত রাজকোষীয় বায়সংকোচন করতে পারে। তাছাড়া বন্ড সুইচ ও বাইব্যাকের দৌলতে সরকারের মোট ঋণের বার্ষিক হিসাব ইতিমধ্যেই ১৭.২ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ১৫.৯৭ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সবমিলিয়ে, মূলধনী ব্যয় সামান্য পুনর্নির্ধারণ ও জিএসটি আদায় বৃদ্ধির ওপর ভর করেই কেন্দ্র এই সংকট সামাল দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।