‘আমেরিকায় এমন করলে কী পরিণতি হত?’ বম্বে হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন অভিনেতা ইমরান খান!

আমেরিকার নাগরিক এবং ওিসি (OCI) কার্ডধারী হয়েও ভারতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। বম্বে হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতির কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এমনকি পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজ আর না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিনেতা।
হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা ও প্রশ্ন:
সোমবার বম্বে হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে আদালত মন্তব্য করে, আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে কোনো ভারতীয় নাগরিক যদি এমন রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিতেন, তবে তার পরিণতি কী হতো? বিচারপতির বেঞ্চ আরও প্রশ্ন তোলে, ছোটবেলা থেকে ভারতে থেকে এবং বলিউডে নিজের পরিচিতি তৈরি করা সত্ত্বেও ইমরান খান কেন আজও ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেন না? ওিসি (OCI) কার্ডধারী হিসেবে তিনি ভারতীয় নাগরিকদের মতো এভাবে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো বিক্ষোভে আর অংশ নেবেন না মর্মে আদালতকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঠিক কী কারণে এই বিতর্ক?
গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভে দেখা গিয়েছিল আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ থেকেই তাঁকে আটক করে মুম্বই পুলিশ। এর ঠিক পরেই গত ১৪ অক্টোবর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) তাঁর বিরুদ্ধে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ (Leave India Notice) জারি করে এবং ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
আদালতের অন্তর্বর্তী স্বস্তি ও আইনি লড়াই:
এফআরআরও (FRRO)-র এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা। তাঁর আইনজীবীর দাবি ছিল, আমেরিকার নাগরিক ও ওিসি কার্ডধারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘকাল ধরে ভারতে বসবাস করছেন এবং কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। গত ২৭ অক্টোবর আদালত এই নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে তাঁকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিয়েছিল। তবে বর্তমান শুনানিতে তাঁর নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার অধিকার নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলায় বিষয়টি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এখন পরবর্তী আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।