‘ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক!’ ৬ ডিসেম্বর ৫ লক্ষ মানুষের জমায়েত ও NH-34 অবরোধের চরম হুঁশিয়ারি হুমায়ুন কবীরের

আগামী ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ওই দিন প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের মেগা জমায়েতের ডাক দিয়েছেন। শুধু জনসভা করেই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি, ওই দিন ৩০ কিলোমিটার জুড়ে জাতীয় সড়ক (NH-34) অবরোধ করারও প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি চ্যালেঞ্জ, “ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক!”

সোমবার বেলডাঙার এক জনসভা থেকে এই বিস্ফোরক ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ ডিসেম্বর রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণভাবে তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। শুধু তাই নয়, কৃষ্ণনগর, ডোমকল, জলঙ্গি, সাঁইথিয়া, কান্দি এবং বর্ধমান-নবদ্বীপ সেতু সংলগ্ন এলাকার সমর্থকদেরও রাস্তায় নেমে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীরা কোনো রকম আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন না।

কেন ৬ ডিসেম্বর তারিখটি অত্যন্ত সংবেদনশীল?

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই ঘটনার বার্ষিকীর দিনটিকেই বেলডাঙায় প্রস্তাবিত নতুন মসজিদ নির্মাণের সূচনা বা কর্মসূচি হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুবিশাল দোতলা মসজিদ তৈরি করা হবে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ নমাজ আদায় করতে পারবেন। শুধু নির্মাণ শুরুই নয়, ২০২৮ সালের ৬ ডিসেম্বরেই এই নতুন মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।

প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ

হুমায়ুন কবীরের এই ৫ লক্ষ মানুষের জমায়েত ও দীর্ঘ জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারিতে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। উৎসবের মরসুমের পরপরই এত বড় জমায়েত ও যোগাযোগ মাধ্যম অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রাজ্য জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এখন প্রশাসনের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এই ৫ লক্ষ মানুষের উপস্থিতির দাবি সম্পূর্ণভাবেই বিধায়কের নিজস্ব, তবুও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।