২০ হাজারে বিক্রি, ৫০ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে জোর করে বিয়ে! নির্যাতনের নরক থেকে অলৌকিক কায়দায় পালিয়ে ফিরল ঝাড়খণ্ডের নাবালিকা

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাম থেকে এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলায় মানবপাচারের এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় নির্যাতনকারীর কবল থেকে পালিয়ে ঘরে ফিরেছে ওই কিশোরী।

দিল্লি থেকে সোজা রাজস্থানে পাচার:

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুমলার বিশুনপুর থানা এলাকার নিজের গ্রাম থেকেই এক মহিলা ওই কিশোরীকে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে রাজধানী দিল্লিতে আনা হয়। এরপর সেখান থেকে রাজস্থানে পাচার করে দেওয়া হয় ওই কিশোরীকে। অভিযোগ, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর জোরপূর্বক সেই বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গেই তার বিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলত অকথ্য শারীরিক নির্যাতন:

বিয়ের পরেই ওই কিশোরীর ওপর নেমে আসে অকথ্য মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। অভিযোগ, একটি বদ্ধ ঘরে তাকে আটকে রেখে প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতন চালানো হতো। প্রতিবাদ করলেই তার জোটে মারধর। এই অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যেও কিশোরীটি হাল ছেড়ে দেয়নি এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

সাহসিকতায় উদ্ধার ও পুলিশের দ্বারস্থ:

অবশেষে একদিন সুযোগ বুঝে সেই বৃদ্ধের কবল থেকে চম্পট দেয় নির্যাতিতা। রাজস্থান থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে প্রথমে দিল্লি, সেখান থেকে রাঁচি এবং অবশেষে নিজের বাড়িতে পৌঁছয় সে। পরিবারকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলার পর তারা বিশুনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যান। তবে অভিযোগ, স্থানীয় থানা প্রাথমিকভাবে কোনো জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে নির্যাতিতা আহাতু থানাতেও আরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বর্তমানে এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।