‘বিনামূল্যের বিদ্যুৎ সুবিধা ছেড়ে দিন!’ নির্বাচনী চমকের পর এবার বিহারের বিত্তশালীদের কাছে কেন এই বড় আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখেই রাজ্যবাসীকে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। তবে এবার সেই সুবিধাকে কেন্দ্র করেই এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রাজ্যের ধনী ও সচ্ছল পরিবারগুলির কাছে স্বেচ্ছায় এই বিদ্যুৎ ভর্তুকি ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ভর্তুকি বাবদ বেঁচে যাওয়া অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা হবে এবং তা সরাসরি রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নতিতে ব্যবহার করা হবে।
বছরে ২৩ হাজার কোটি টাকার বোঝা
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানান, নির্বাচনী ঘোষণার পর থেকে ধনী বা দরিদ্র কোনো ভেদাভেদ না করেই প্রতিটি পরিবারকে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। ফলে রাজ্য সরকারকে প্রতি পরিবার পিছু বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাবদ গুণতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে শুধুমাত্র এই একটি প্রকল্প পরিচালনা করতেই বিহার সরকারের বছরে প্রায় ২৩,০০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা
সম্প্রতি বিহারের বিরোধী দলগুলি লাগাতার অভিযোগ করে আসছে যে, রাজ্যে সরকারের কোষাগার নাকি সম্পূর্ণ শূন্য। এমনকি সরকারি কর্মচারী ও বিধায়কদের বেতন দেওয়া নিয়েও সংকট তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তোলে তারা। এই সমস্ত সমালোচনার জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই কাজ করছে।
তিনি ধনকুবের ও সক্ষম নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি স্বেচ্ছায় এই বিনামূল্যে বিদ্যুতের সুবিধা ত্যাগ করেন কিংবা সরকারকে অর্থ দান করেন, তবে সেই তহবিল রাজ্য গঠনের কাজে লাগানো হবে। বিশেষ করে বিহারের প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তুলতে এই অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”