মাঝেরহাট নয় এবার মাথাভাঙা! লরির ভার সইতে না পেরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল আস্ত সেতু, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ!

উৎসবের মরশুম হোক কিংবা সাধারণ দিন—অবহেলা আর উদাসীনতার মাশুল যে সাধারণ মানুষকে এভাবেই চড়াও হতে হয়, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল কোচবিহারের মাথাভাঙায়। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও মেরামতের অভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি ভারী লরি সেতুটির ওপর উঠতেই তার ওজন সহ্য করতে না পেরে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে, যার ফলে বর্তমানে বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া ও নিত্যযাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাথাভাঙার ওই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ এবং বিভিন্ন ছোট-বড় যানবাহন যাতায়াত করত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কোনো রকম রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের কাজ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্পষ্ট অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট দফতরের উদাসীনতার কারণে এর বেহাল দশা হয়েছিল। বারবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। লোহার গার্ডার ও পিলারের অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়েছিল যে, তা যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।
ঘটনার দিন একটি মালবোঝাই লরি সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করতেই দুর্বল কাঠামোটি আর ভার সামলাতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে সেতুটির একাংশ ভেঙে খালের জলে বসে পড়ে। লরিটির চালক ও সহকারীর কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পেলেও, এই দুর্ঘটনার জেরে দুই পাড়ের মধ্যে সমস্ত ধরণের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে যাতায়াতের বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন নদী পারাপারকারী সাধারণ মানুষ। রোগীদের হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া কিংবা স্কুল-কলেজে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কীভাবে ওভারলোডেড বা ভারী লরি ওই সেতুতে উঠল এবং তার ফিটনেস কেমন ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের একটাই দাবি, অবিলম্বে দ্রুত গতিতে নতুন সেতু নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায় আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।