ভোট চুরির অভিযোগে রামলীলা ময়দানে বিস্ফোরক INDI জোট! পাল্টা হুংকারে মেগা শো বিজেপির!

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে উত্তেজনার পারদ একেবারে চরমে। ভোট চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবি নিয়ে দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সামিল হলো বিরোধী ‘INDI’ জোট। এই মেগা সমাবেশকে ঘিরে রাজধানী যখন উত্তাল, ঠিক তখনই তার পাল্টা হিসেবে ময়দানে নেমে পড়েছে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দেশের একাধিক রাজ্যে একযোগে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ স্লোগান তুলে রাস্তায় নেমেছে পদ্মশিবির।

গত কাল হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে একটি বিশাল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শুধু হরিয়ানাই নয়, আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাতেও একটি হেভিওয়েট মিছিলের আয়োজন করেছে বিজেপি। এদিনের এই হাই-প্রোফাইল কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছেন খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মতো হেভিওয়েট নেতারা। বিরোধী জোটের এই মেগা কর্মসূচির দিনেই বিজেপির এমন পাল্টা শো রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

দিল্লির রামলীলা ময়দানের এই ঐতিহাসিক সমাবেশ প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার গোটা রাজনৈতিক জীবনে দিল্লিতে এমন বিশাল জনসমুদ্র আমি আর কখনও দেখেনি। এই বিপুল জনজোয়ারই পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, কেন্দ্রের বর্তমান ক্ষমতাসীন বিজেপির বিদায়ঘণ্টা এবার পাকাপাকিভাবে বেজে গেছে।” অন্যদিকে, দিল্লির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রায় সশরীরে সামিল হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং দিল্লি রাজ্য বিজেপির সভাপতি হর্ষ মলহোত্রা। বিশেষ করে, ১৯৮৪ সালের মর্মান্তিক শিখ-বিরোধী হিংসার নিহতদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এদিন দিল্লির বিজেপি নেতারা তাঁদের মাথায় কালো কাপড় বেঁধে এই প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধীদের তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী জোটকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “আমাদের পার্টি আগেই প্রেস কনফারেন্স করে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট কিছু সংবেদনশীল দিনে কোনো রাজনৈতিক জলসা বা উৎসব রাখা উচিত নয়। কারণ এগুলি শিখ দাঙ্গার কালো দিন। এই দিনে অনুষ্ঠান করলে আমাদের শিখ ভাই, মা, বোন ও শিশুদের পবিত্র আবেগে দারুণভাবে আঘাত লাগবে। কিন্তু তাঁরা জেদ ধরে বসেছিলেন এবং বিদেশ থেকে নির্দেশ পেয়ে ঠিক সেই দিনটিকেই বেছে নিয়েছিলেন, যেদিন হাজার হাজার innocent শিখকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। গুরুর এই পবিত্র ভূমি থেকে আমি তাদের এই কুৎসিত ও অমানবিক উদ্যোগের তীব্রতম ভর্ৎসনা ও নিন্দা জানাচ্ছি। ভারত ও পাঞ্জাব কখনোই এই ঐতিহাসিক অন্যায় ভুলবে না।”

পাশাপাশি, সিমলার ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রার নেতৃত্ব দেওয়ার সময় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধীদের। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনে SIR না হলে কীভাবে দেশবিরোধী অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব? আগে কংগ্রেস সরকার এই নিয়ে জবাব দিক, তারপর আমাদের দিকে আঙুল তুলুক। কংগ্রেসের শাসনকালে সব ভালো আর যেখানেই বিজেপি সরকার, সেখানেই তাদের চোখে ভোট চুরির চক্রান্ত? এই দ্বিচারিতা আর চলবে না।” অন্যদিকে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা সচিন পাইলট কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই সরকার যেকোনো উপায়ে আমাদের চাপে রাখতে চাইছে যাতে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পায় এবং নিজেদের অধিকারের কথা বলতে না পারে। কিন্তু লাখো চেষ্টার পরেও না রাহুল গান্ধী একচুল পিছু হঠবেন, আর না আমাদের INDI জোটের কোনো শরিক দল পিছু হটবে।” সবমিলিয়ে, রামলীলা ময়দানের সমাবেশ এবং দেশজুড়ে বিজেপির এই পাল্টা যাত্রাকে কেন্দ্র করে আসন্ন রাজনৈতিক লড়াই যে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।