২০০ কোটি প্লাস্টিক নোট ছাপানোর মেগা প্ল্যান RBI-এর! ১ এপ্রিল থেকে কি বদলে যাচ্ছে সব নিয়ম?

নিত্যদিনের কেনাকাটায় বহুল ব্যবহৃত ১০ এবং ২০ টাকার নোটে আসতে চলেছে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন! খুব শীঘ্রই ভারতীয় বাজার কাঁপাতে আসছে পলিমার নামক বিশেষ এক ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ১০ ও ২০ টাকার নোট। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই নতুন প্লাস্টিক বা পলিমার নোট বাজারে আনার ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
কেন কাগজের বদলে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট?
ভারতে দৈনিক লেনদেনে— শাকসবজির বাজার থেকে শুরু করে বাস, অটো বা পাড়ার মুদি দোকানে ১০ ও ২০ টাকার নোটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বারবার হাতবদল হওয়ার কারণে এই নোটগুলি দ্রুত নোংরা হয়ে যায়, কুঁকড়ে যায় এবং অতি সহজে ছিঁড়ে যায়। ফলে প্রতি বছর রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে বিপুল অর্থ খরচ করে কোটি কোটি নতুন কাগজের নোট ছাপাতে হয়।
এই বিশাল খরচ সামাল দিতে এবং নোটের স্থায়িত্ব বহুগুণ বাড়াতেই প্লাস্টিক বা পলিমার নোট চালুর উদ্যোগ। এই নতুন নোটগুলি হবে জল ও আর্দ্রতা প্রতিরোধী (Waterproof), ফলে জলে ভিজলেও নষ্ট হবে না বা সহজে ছিঁড়বে না। এতে নোট ছাপানো ও পরিবহনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
প্রথম দফায় ২০০ কোটি নোট! কী জানাল RBI?
কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই আরবিআই-এর এই পরীক্ষামূলক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী:
১০ টাকার পলিমার নোট তৈরি হবে ১০০ কোটি
২০ টাকার পলিমার নোট তৈরি হবে ১০০ কোটি
মোট ২০০ কোটি নোটের একটি ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক ব্যবহার চালুর প্রস্তুতি চলছে। দেশের বেশ কিছু নির্বাচিত শহরে প্রথমে এই নোটগুলির কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব পরীক্ষা করে দেখা হবে। টেস্ট রান সফল হলে পরবর্তীতে সারা দেশজুড়ে পুরোদমে চালু করা হতে পারে পলিমার কারেন্সি।
কবে থেকে বাজারে আসবে এই নোট?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই প্লাস্টিক নোটগুলির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে পারে। তবে আরবিআই-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি এখনও প্রাথমিক উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত পর্যায়ে রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের হাতে এই নোট ঠিক কোন নির্দিষ্ট তারিখে পৌঁছাবে, তার চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করা হয়নি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: পুরনো কাগজের ১০ ও ২০ টাকার নোট কি বাতিল হয়ে যাবে?
প্লাস্টিকের নোট আসার কথা শুনতেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্পষ্ট বার্তা— পুরনো নোট মোটেও বাতিল হচ্ছে না।
নতুন পলিমার নোট বাজারে এলেও পুরনো কাগজের ১০ এবং ২০ টাকার নোট আগের মতোই ১০০% বৈধ বা ‘লিগ্যাল টেন্ডার’ থাকবে। অর্থাৎ, নতুন প্লাস্টিক নোট এবং পুরনো কাগজের নোট— দুটিই পাশাপাশি সমান্তরালভাবে লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এতে আমজনতার বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।