“পরপর ২ দিন কাজ করবে না এই ব্যাঙ্ক!” নভেম্বরের শুরুতেই ব্যাঙ্কিং স্তব্ধ হওয়ার বড় আশঙ্কা, জানুন আপডেট

চলতি মাসের শুরুতেই দেশজুড়ে বড় ধরনের ব্যাঙ্কিং বিভ্রাটের মুখে পড়তে চলেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর (সোমবার ও মঙ্গলবার) পরপর দু’দিন দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে IDBI Bank-এর কর্মী ও আধিকারিকদের যৌথ সংগঠনগুলি। কলকাতা সহ দেশের প্রতিটি বড় শহরে এই ধর্মঘটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে চলেছে। ফলে এই দু’দিন ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে নগদ টাকা জমা, টাকা তোলা বা চেকের কাজ সহ যেকোনো জরুরি ব্যাঙ্কিং পরিষেবার ক্ষেত্র চরম সমস্যা তৈরি হতে পারে।

গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে সমস্ত জরুরি লেনদেন সেরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল পরিষেবা ও এটিএম (ATM) সচল থাকবে

ধর্মঘটের জেরে শাখা ভিত্তিক পরিষেবা ব্যাহত হলেও ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় যাতে গ্রাহকদের অসুবিধা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। IDBI Bank-এর তরফে জানানো হয়েছে:

  • গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে Go Mobile+ অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং UPI পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

  • চালু থাকবে সমস্ত এটিএম (ATM) এবং কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট (CSP)।

  • সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, ধর্মঘটের ওই দু’দিন অন্য যেকোনো ব্যাঙ্কের ATM থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো বাড়তি সার্ভিস চার্জ নেওয়া হবে না।

কেন হঠাৎ এই ধর্মঘটের ডাক?

কেন্দ্রীয় সরকার ও লাইফ ইনশিওরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC)-র অধীনে থাকা IDBI Bank-এর শেয়ার বিক্রি করে ব্যাঙ্কটিকে বেসরকারিকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ’ (UFIOE)-র মূল প্রতিবাদ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই।

গত ১৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রির অনুমোদনে সায় দেয়। কানাডার বিখ্যাত সংস্থা ‘Fairfax Financial Holdings’-এর একটি সহযোগী সংস্থার কাছে প্রায় ৫২,৮৭৮.০৮ কোটি টাকায় এই বিপুল শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাঙ্কের সমস্ত পরিচালন নিয়ন্ত্রণ এক লহমায় বিদেশি তথা বেসরকারি সংস্থার হাতে চলে যাবে।

কর্মীদের চরম উদ্বেগ ও বিরোধী শিবিরের তোপ

ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির মূল বক্তব্য ও দাবিগুলি হলো:

  • রাষ্ট্রায়ত্ত চরিত্র রক্ষা: এই হস্তান্তরের ফলে ব্যাঙ্কের সরকারি পরিচয় সম্পূর্ণ নষ্ট হবে। তাই সরকার ও LIC মিলে যেন ব্যাঙ্কের অন্তত ৫১% শেয়ার নিজেদের হাতেই রাখে।

  • চাকরি ও সামাজিক নিরাপত্তা: কর্মীদের চাকরির স্থায়িত্ব, সময়মতো পেনশন প্রদান ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা সুরক্ষিত রাখতে লিখিত ও আইনি গ্যারান্টি চেয়েছে সংগঠনগুলি।

UFIOE-র এক শীর্ষ আধিকারিক ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি সংস্থার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার এই চরম সিদ্ধান্ত আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। তার প্রতিবাদেই আমরা ২ ও ৩ নভেম্বর দেশব্যাপী এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

অন্যদিকে, দেশের একটি লাভজনক ব্যাঙ্ককে কানাডার সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তিনি।