“১ কোটি হিন্দুর ভোট কাটা হলো, তারাও কি পাকিস্তানি?” দিল্লির মেগা মঞ্চে বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন ফারুক আবদুল্লাহ!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সুবিশাল ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ জনসভা থেকে কেন্দ্র সরকার ও বিজেপি নেতৃত্বকে চরম রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে ফেললেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী—ফারুক আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতি।

দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের বারবার ‘পাকিস্তানি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া এবং নতুন ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম কাটার অভিযোগ তুলে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান এই দুই হেভিওয়েট ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিডিপি প্রধান।

“১ কোটি হিন্দুর ভোট বাতিল হলো, তাঁরাও কি পাকিস্তানি?”

রামলীলা ময়দানের সুবিশাল জনসমুদ্রের সামনে বক্তব্য রাখার সময় ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC) সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, “যে কোনো ইস্যুতেই এ দেশের মুসলমানদের বারবার পাকিস্তানি বলে চিহ্নিত করা হয়। অথচ ভুলে গেলে চলবে না, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে হিন্দু, শিখদের পাশাপাশি ভারতের মুসলমানরাও বুক চিতিয়ে নিজেদের রক্ত দিয়েছেন।”

ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোট কাটার মারাত্মক অভিযোগ তুলে ফারুক আবদুল্লাহ আরও বলেন, “যদি আপনাদের যুক্তি মেনে নেওয়া হয়, তবে যে ১ কোটি ২৭ লক্ষ হিন্দুর ভোট একলপ্তে ভোটার তালিকা থেকে কেটে বাতিল করা হলো, তাঁরাও কি তবে পাকিস্তানি? ভারতের মাটিতে বসবাসকারী হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান—আমরা সবাই ভারতীয় এবং সংবিধানে সকলের সমান ভোটাধিকার রয়েছে।”

“দেশকে জম্মু-কাশ্মীরে পরিণত করার চক্রান্ত চলছে”

একই মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ডেমোক্রেটিক পিস অ্যান্ড প্রোগ্রেসিভ পার্টি (PDP)-র প্রধান মেহবুবা মুফতি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “২০১৪ সাল পর্যন্ত এই দেশে যে সমস্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, গত কয়েক বছরে তা পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।”

হুঁশিয়ারির সুরে মেহবুবা মুফতি বলেন, “যেভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আজ ঠিক একই মডেলে সমগ্র দেশকে জম্মু-কাশ্মীরে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বর্তমান কেন্দ্র সরকার।”

রামলীলার মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীরা

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি—উভয়েই অবিলম্বে জনগণের মৌলিক ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবি জানান। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদবের উপস্থিতিতে কাশ্মীরের এই দুই শীর্ষ নেতার এই বিস্ফোরক বক্তব্য দিল্লির মেগা সমাবেশে এক নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ যোগ করেছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha