প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট? সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মিলবে ক্ষতিপূরণ, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার বিরাট আপডেট!

অস্বাভাবিক আবহাওয়া, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা খরা—প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় নষ্ট হয়ে যায় কষ্টার্জিত ফসল। মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আর্থিক ধাক্কা থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে মোদী সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ (PMFBY) এক অন্যতম ভরসাযোগ্য সুরক্ষা বলয়। নামমাত্র প্রিমিয়ামে শস্য বিমা এবং সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার এই জনমুখী প্রকল্প নিয়ে এখন দেশজুড়ে জোরদার প্রচার শুরু হয়েছে।

নামমাত্র প্রিমিয়ামে ব্যাপক সুরক্ষা

“এক দেশ, এক ফসল, এক প্রিমিয়াম” (One Nation, One Crop, One Premium) নীতি মেনে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় খরিফ মরসুমের খাদ্যশস্য ও তৈলবীজের জন্য কৃষকদের মাত্র সর্বোচ্চ ২% প্রিমিয়াম দিতে হয়। রবি মরসুমে এই হার ১.৫% এবং বার্ষিক বাণিজ্যিক বা উদ্যানপালন ফসলের ক্ষেত্রে তা ৫%। বাকি অ্যাকচুয়ারিয়াল প্রিমিয়ামের সিংহভাগ অংশ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ বছরে এই যোজনার মাধ্যমে ২৬.৩৩ কোটিরও বেশি আবেদনের বিপরীতে কৃষকদের ২.০৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে।

কোন কোন ঝুঁকি কভার করা হয়?

  • ফলন হ্রাস: খরা, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া, বন্যা, জলমগ্নতা, ঘূর্ণিঝড় বা শিলাবৃষ্টির মতো অনিবার্য কারণে ফসলের ক্ষতি হলে এলাকাভিত্তিক সুরক্ষা মিলবে।

  • বীজ বপনে বাধা: প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বীজ বপন করা সম্ভব না হলেও কৃষকরা বীমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত দাবি করতে পারেন।

  • ফসল কাটার পরবর্তী ক্ষতি: ফসল কাটার পর শুকানোর জন্য জমিতে ছড়ানো থাকা অবস্থায় (cut-and-spread condition) ১৪ দিন পর্যন্ত অকাল বৃষ্টি বা ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি এই বিমার আওতাভুক্ত।

  • স্থানীয় দুর্যোগ: শিলাবৃষ্টি, ভূমিধস, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি বা আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় নির্দিষ্ট খামারের ক্ষতিও পূরণ করা হয়।

‘মেরি পলিসি মেরে হাত’ প্রচার ও সহজ আবেদন পদ্ধতি

খরিফ ২০২৬ মরসুমের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেরি পলিসি মেরে হাত’ (MPMH) প্রচারণায় এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্স-সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিমা কোম্পানিগুলো সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, কর্ণাটকসহ ৯টি রাজ্যে ‘ফসল বিমা পাঠশালা’ ও ‘কৃষক মেলা’র মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের হাতে পলিসি তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকরা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (pmfby.gov.in)-এর মাধ্যমে খুব সহজেই আবেদন করতে পারেন। আবেদন অনুমোদিত হলে ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে যায়। স্যাটেলাইট ইমেজিং ও ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি করায় বড় স্বস্তি পেয়েছেন দেশের কোটি কোটি অন্নদাতা।