নন্দনে রাতারাতি গায়েব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম! স্মারক ফলকে পড়ল সাদা রঙের প্রলেপ, অক্ষত জ্যোতি বসুর নাম

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র এবং কলকাতার সংস্কৃতিচর্চার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ‘নন্দন’ চত্বরে ঘটে গেল বড়সড় রদবদল। নন্দন চত্বর থেকে মুছে দেওয়া হলো রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। নন্দনের বিভিন্ন ভবন, প্রদর্শনী ক্ষেত্র ও গত দেড় দশকের সংস্কারমূলক কাজের উদ্বোধনী স্মারক ফলকগুলোতে যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম খোদাই করা ছিল, সেখানে সাদা ও ধূসর রঙ লেপে তা সম্পূর্ণ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে নন্দন প্রতিষ্ঠার মূল স্মারক ফলক, যেখানে রাজ্যটির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নাম রয়েছে, তা যথারীতি অক্ষত ও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সংস্কৃতির তীর্থক্ষেত্রে রাজনীতির ‘রং’

কলকাতার এই বিখ্যাত চলচ্চিত্র কেন্দ্রটি কেবল সিনেমা দেখার স্থান নয়; এটি নন্দনতত্ত্ব, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং তরুণ প্রজন্মের মুক্ত চিন্তা ও আড্ডার অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র। ১৯৮০ সালে এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং ১৯৮৫ সালে সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

পরবর্তীকালে ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নন্দনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, নবীকরণ এবং নতুন প্রদর্শনী কক্ষের উদ্বোধনের স্মারক হিসেবে নন্দন চত্বরে যুক্ত হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত বেশ কিছু মার্বেল ও ধাতব ফলক। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের পর তাঁর নশ্বর দেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য রবীন্দ্র সদন বা নন্দনে রাখার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার রাজ্যের সরকার পরিবর্তনের আবহেই নন্দনের একাধিক ফলকে রং লেপে সেই নাম ঢেকে দেওয়া হলো।

তৃণমূলের তীব্র ক্ষোভ

নন্দন চত্বরে নাম মুছে দেওয়ার এই ঘটনায় ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “রাজ্যে আসলে একটা স্বৈরাচারী সরকার চলছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গত ১৫ বছরে রাজ্যে কী কী ভালো কাজ হয়েছে তা মুছে ফেলতে!”

বদলে গেল KIFF-এর লোগো, উন্মোচনে মিঠুন চক্রবর্তী

একদিকে যখন ফলক বিতর্ক নিয়ে তোলপাড় সাংস্কৃতিক মহল, ঠিক তখনই এদিন নন্দনে আয়োজিত একটি জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে উন্মোচিত হলো কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF)-এর নতুন লোগো। তথাকথিত পুরনো ছক ভেঙে এবার বদলে দেওয়া হয়েছে চলচ্চিত্র উৎসবের ঐতিহাসিক লোগোটিও। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন লোগোর উদ্বোধন করেন।

নন্দন চত্বরে নাম মোছার রাজনীতি এবং কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের খোলস বদল নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক মহল।

আপনার কি এই সংবাদের ওপর আরও কোনো অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া বা রাজনৈতিক মন্তব্যের আপডেট যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে?