“১ কোটি ২৭ লক্ষ ভোট মুছে যোগী মশাই এখন দিল্লিকে দোষ দিচ্ছেন!” রামলীলা ময়দানে অখিলেশের তোলপাড় ফেলা বয়ান

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ মেগা মহাসমাবেশ থেকে শাসকদল বিজেপি ও উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন সমাজবাদী পার্টির (SP) জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব। উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়াকে সরাসরি ভোট চুরির ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে অখিলেশ দাবি করেন, মোদী-যোগীর তথাকথিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারকে দেশের মানুষ এবং বিশেষ করে কাশীর জনগণ ইতিমধ্যেই ‘ডাবল জিরো’ বানিয়ে দিয়েছেন।

রামলীলার সুবিশাল মঞ্চে ভাষণ দিতে উঠে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সাম্প্রতিক এক বক্তব্য তুলে ধরে নিজের ভাষণ শুরু করেন অখিলেশ যাদব।

“১ কোটি ২৭ লক্ষ ভোট মুছে নিজের হার ঢাকা হচ্ছে”

উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় বিপুল নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গে অখিলেশ বলেন, “প্রকৃত সত্যটা সম্পূর্ণ আলাদা। প্রকৃতপক্ষে ১ কোটি ২৭ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে একলপ্তে মুছে ফেলা হয়েছে। আর এখন রাজ্যজুড়ে নিশ্চিত পরাজয় দেখে মুখ্যমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতার দায় দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন।”

পরিসংখ্যানের অংক কষে অখিলেশ ব্যাখ্যা করেন, ১ কোটি ২৭ লক্ষ বাদ পড়া ভোটের এই বিশাল সংখ্যাটিকে যদি উত্তরপ্রদেশের ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হয়, তবে দেখা যাবে প্রতিটি বিধানসভা আসনে গড়ে প্রায় ৩১,০০০ ভোটারের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

“বিজেপি শুধু নিজেদের ক্যাডারদেরই নাগরিক মনে করে”

নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির আঁতাতকে কাঠগড়ায় তুলে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অভিযোগ করেন, “বিজেপি যখনই বুঝতে পেরেছে তারা নির্বাচনে স্পষ্ট পরাজয়ের মুখে, ঠিক তখনই এই ভোট ছাঁটাইয়ের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। বিজেপি চায় দেশের শুধু তাদের দলের সদস্যরাই ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকুক এবং কেবল তাদের নেতারাই দেশের বৈধ নাগরিক হিসেবে গণ্য হোক—আজ এই গণতন্ত্রবিরোধী চক্রান্তই দেশে চালানো হচ্ছে।”

‘ডাবল ইঞ্জিন’ এখন ‘ডাবল জিরো’

কাশীর সংসদীয় ও রাজনৈতিক সমীকরণের প্রসঙ্গ টেনে অখিলেশ যাদব হাসিমুখে বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত যে কাশীর সচেতন জনগণ বিজেপির এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারকে পুরোপুরি ‘ডাবল জিরো’তে পরিণত করে দিয়েছেন।”

দিল্লির রামলীলা ময়দানের এই জনসভা থেকে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদবের একযোগে এই তোপ আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির পারদ যে আরও চড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।

আপনি কি এই খবরের পাশাপাশি রামলীলা ময়দানের অন্যান্য নেতাদের (যেমন রাহুল গান্ধী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের) বক্তব্য যুক্ত করে একটি বড় স্পেশাল ডেস্ক রিপোর্ট তৈরি করতে চান?

Pratik Saha
  • Pratik Saha