আন্টি আর বেবির এখন দারুণ ভাব!” মমতা-সিপিএম আঁতাতকে কটাক্ষ করে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সখ্য এবং অন্যদিকে ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A) জোটের বৈঠকে দুই দলের কাছাকাছি আসাকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু এক হাত নেন বাম ও ঘাসফুল শিবিরকে।

শনিবার গড়েরিয়ার ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি ও অন্যান্য রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বাম-তৃণমূলের এই গোপন আঁতাতকে সরাসরি ‘নৈরাজ্য ফেরানোর চক্রান্ত’ বলে তোপ দাগেন তিনি।

🤝 “বেবি আর আন্টি এক হয়েছে, ওরাই টুকরে টুকরে গ্যাং!”

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, সিপিএম আর তৃণমূল এখন সম্পূর্ণ একাকার হয়ে গিয়েছে।

তিনি কটাক্ষ করে বলেন:

“মাকুরা, যারা একসময় বলত ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’, সেই টুকরে টুকরে গ্যাং এবং সুজন-সূর্যবাবুরা যারা বলত আমরা নাস্তিক—আজ তারা আর মমতা-তৃণমূল এক হয়েছে। একসময় যে তৃণমূল তৈরি হয়েছিল অটলজির আশীর্বাদে, সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাংলাকে বাঁচানোর জন্য, আজকে সেই বেবি আর আন্টি দু’জনে একসঙ্গে চা খাচ্ছেন!”

শনিবার গড়বেতার সভা থেকেও তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যে “যাহা তৃণমূল, তাহাই সিপিএম”। দুই পক্ষ মিলেমিশে ফের একবার রাজ্যে সেই পুরোনো নৈরাজ্যের কালো দিন ফিরিয়ে আনতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

⚖️ গড়বেতার পুরোনো অপরাধের ফাইল খোলার চরম হুঁশিয়ারি

রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি বাম আমলের বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার ফাইল পুনরায় খোলার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান:

  • পুরোনো মামলার রি-ওপেনিং: বাম আমলে ঘটে যাওয়া অপরাধের সমস্ত ফাইল আবার খোলা হবে। গড়বেতার সিপিএম অফিস থেকে যে সমস্ত অস্ত্রধারী নন্দীগ্রামে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল, তাদের একটাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

  • অতীতের চ্যালেঞ্জের পুনরাবৃত্তি: অতীতে তপন-সুকুরা যেভাবে তাঁর পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল, তার কড়া জবাব তিনি যে অতীতে চন্দ্রকোনা রোডে সুশান্ত ঘোষের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে সভা করে দিয়েছিলেন, সে কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশন বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বাম-তৃণমূলের এই নতুন সমীকরণ এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণ আগামী দিনে রাজনৈতিক পারদ আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।