আমেরিকা-ইরান সংঘাত বন্ধের শেষ সুযোগ? পর্দার আড়ালে তৈরি হচ্ছে শান্তির গোপন মাস্টারপ্ল্যান!

মধ্যপ্রাচ্যে চরম সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত মেটাতে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অলিন্দে তৈরি হচ্ছে এক বড়সড় শান্তির খসড়া প্রস্তাব। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে উভয় দেশই এক ঐতিহাসিক চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই খসড়া অনুযায়ী, ইরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার কোনো তৃতীয় দেশে পাঠাতে বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে সম্মত হতে পারে। এর বদলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে।

‘আল অ্যারাবিয়া ইংলিশ’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক সমঝোতার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনা তুরস্কের ইস্তাম্বুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিশ্বরাজনীতির সমীকরণে আরও চমক এনে চীন এই চুক্তি বাস্তবায়নের গ্যারান্টার বা জামিনদার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সরাতে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হয়, তবে তার বিনিময়ে আমেরিকাও ইরানের ওপর চাপানো কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ-অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেবে।

সম্পূর্ণ চুক্তি প্রক্রিয়াটিকে অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে প্রতি পদক্ষেপে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ নজরদারি এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা রাখা হবে। অন্যদিকে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য বিরোধীরা তাঁর ইরান নীতিকে দায়ী করলেও ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থানের সাফাই দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইরান এখন আমেরিকা ও তার সহযোগীদের সঙ্গেই সমঝোতায় আসতে বাধ্য হচ্ছে।