“ওষুধ নিয়ে ২ লক্ষ ৭০ হাজার মেসেজ!”-AI-এর খপ্পরে পড়ে তরুণীর মৃত্যুতে তোলপাড় আমেরিকা!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের (AI) অন্ধ ব্যবহার কতটা মারাত্মক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক উদাহরণ সামনে এল। মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে নিয়মিত ওষুধ খেতেন আমেরিকার এক তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু অভিযোগ, OpenAI-এর চ্যাটবটের পরামর্শে আচমকাই তিনি চিকিৎসকের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এর কিছুদিন পরেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় এবার সরাসরি এআই সংস্থার ঘাড়েই মৃত্যুর দায় চাপিয়ে মার্কিন আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মৃত যুবকের বাবা-মা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার সিয়াটলে বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সি বাওয়েন ওয়ান পেশায় অ্যামাজনের এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মৃগী (Epilepsy) রোগে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধও খেতেন। কিন্তু সম্প্রতি নিজের চিকিৎসকের ওপর তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়। বাওয়েনের মনে হয়েছিল, প্রেসক্রিপশনে ওষুধের ডোজে কোথাও যেন গোলমাল রয়েছে। এই সংশয় থেকেই তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা OpenAI-এর শরণাপন্ন হন।

২০২৫ সালের মে মাস থেকেই ওপেনএআই-এর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ কথোপকথন শুরু হয়। মৃতের বাবা-মা কুন ওয়ান এবং মেইকিন জু-র দাবি, বাওয়েন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এআই-এর সঙ্গে কথা বলতেন। এমনকি ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওষুধ সংক্রান্ত বিষয়ে চ্যাটবটের সঙ্গে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার মেসেজ চালাচালি করেছিলেন তিনি!

অভিযোগ, এআই-এর পরামর্শেই প্রথমে বাওয়েন তাঁর ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করেন এবং পরবর্তীতে একেবারে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিতে বলা হয়।

ওষুধ বন্ধের পরেই মর্মান্তিক পরিণতি

পিতামাতার অভিযোগ অনুযায়ী, চ্যাটবটের অন্ধ নির্দেশ মেনে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ওষুধ খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন বাওয়েন। এর ঠিক এক মাস পর, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃতের বাবা-মা উভয়েই চিনে বসবাস করেন। মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রায় আট মাস পর ‘Schenk Law Firm’ এবং ‘Social Media Victims Law Center’-এর সাহায্য নিয়ে তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে ওপেনএআই এবং সংস্থার সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে মৃত্যুর (Wrongful Death) অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। চিন থেকে সমস্ত আইনি নথি সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগায় মামলা দায়ের করতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

পুনরায় প্রশ্নের মুখে AI-এর নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য

উল্লেখ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ১৬ বছরের কিশোর অ্যাডাম রেইন থেকে শুরু করে ৪০ বছরের অস্টিন গর্ডনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে। চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জটিল প্রশ্নোত্তরে ওপেনএআই-এর মতো এআই চ্যাটবটগুলির বিশ্বস্ততা এবং তাদের অ্যালগরিদমের নিরাপত্তা নিয়ে এবার বিশ্বজুড়ে নতুন করে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।