পাঞ্জাবে ভোটের আগেই বড় ধামাকা কেজরিওয়াল-মানের! বাদ পড়ছেন ৪০-৪৫ জন বিধায়ক, শনিবারই আছড়ে পড়ছে বড় তালিকা

২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক আগেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করল আম আদমি পার্টি (এএপি)। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে দলের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনে বসা উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির (PAC) বৈঠকের পর এক অভূতপূর্ব ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ৩১শে অক্টোবর (শনিবার) দলের পিএসি-র পরবর্তী বৈঠকের পরেই আসন্ন পাঞ্জাব নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের প্রথম তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
নয়াদিল্লির এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ভগবন্ত মান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মণীশ সিসোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন ও জেসমিন শাহের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব। পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গ্রাউন্ড রিপোর্ট পেশ করেন রাজ্য এএপি সভাপতি আমান অরোরা ও অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা।
হঠাৎ আগেভাগে প্রার্থী তালিকা কেন?
নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়া বা নির্বাচন কমিশন দিনক্ষণ ঘোষণার বেশ কিছু আগেই প্রার্থীদের নাম ময়দানে নামিয়ে দেওয়ার এই কৌশলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর পেছনে মূলত ৩টি বড় কারণ উঠে আসছে:
প্রচার ও প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময়: প্রার্থীরা যাতে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় পর্যাপ্ত সময় পান এবং জনগণের সঙ্গে জনসংযোগ আরও মজবুত করতে পারেন, তার জন্যই এই আগাম পদক্ষেপ।
বিপুল রদবদল ও টিকিট ছাঁটাই: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য সরকারবিরোধী হাওয়া বা অসন্তোষ কাটাতে কড়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে হাইকম্যান্ড। অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা ও পারফরম্যান্স রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন বর্তমান বিধায়কের টিকিট বাতিল করা হতে পারে। তাঁদের জায়গায় নতুন ও তরুণ মুখদের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
বিরোধীদের বয়ান ভেস্তে দেওয়া: কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি রাজ্যে আপ-এর পরাজয়ের যে বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করছে, তা গুঁড়িয়ে দিতে শুরুতেই হেভিওয়েট ও পর পর দু’বার জেতা প্রভাবশালী নেতাদের নাম নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে হাইকম্যান্ড স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা পুনরায় বিপুল জয় নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।