আদালতের নির্দেশে ফের বড় স্বস্তি! সন্দীপ ঘোষের পর এবার জামিন পেলেন আরজি করের ঘনিষ্ঠ ভেন্ডার সুমন হাজরা!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভয়াবহ আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আইনি ক্ষেত্রে ফের এক নতুন মোড় দেখা গেল। সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ জামিন পাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা ‘হাজরা মেডিকেল’-এর মালিক সুমন হাজরা। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। দীর্ঘ দু’বছর কারাবাসের পর এই জামিন পাওয়ায় অন্যতম অভিযুক্তদের আইনি স্বস্তি মিললেও, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও হাসপাতালের দুর্নীতির মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনো নিয়ে জনমানসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে প্রাপ্ত তদন্তে জানা গিয়েছিল, আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, ওষুধ ক্রয় এবং বিভিন্ন বড় ও ছোট টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী চক্র বা কার্টেল তৈরি করা হয়েছিল। যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই ভেন্ডার সুমন হাজরা ও অপর ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহ। গত ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিবিআই এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে সুমনকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তকারী সংস্থার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী কেনাকাটায় ভুয়ো নথি ব্যবহার, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এড়িয়ে যাওয়া এবং বাজারদরের তুলনায় অনেক চড়া দামে সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের প্রায় সাত কোটি টাকার বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এই দুর্নীতির জাল এতটাই বিস্তৃত ছিল যে পরবর্তীতে আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-ও আসরে নামে এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি দফায় দফায় চার্জশিট দাখিল করে।
তবে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্যগ্রহণের শ্লথগতির কথা মাথায় রেখে অবশেষে শর্তসাপেক্ষে সুমন হাজরার জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ জামিনের ক্ষেত্রে একাধিক কঠোর শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, সুমনকে নিম্ন আদালতে ২০ হাজার টাকার দুটি সিওরিটি বন্ড জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন নিয়মিতভাবে মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। তদন্তের স্বার্থে কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগর এলাকার বাইরে তাঁর যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং তাঁকে অবিলম্বে নিজের পাসপোর্ট জমা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নির্দিষ্ট একটিভ মোবাইল নম্বর সর্বদা সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে সক্রিয় রাখতে হবে এবং মামলার কোনো সাক্ষীকে কোনোভাবেই প্রভাবিত বা ভয় দেখানো যাবে না বলে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে হাইকোর্ট।