গ্রামের উন্নয়নে সরাসরি ৫১ লাখের উপহার! বিরোধীদের কড়া তোপ দেগে বড় সিদ্ধান্ত ভগবন্ত মানের

পাঞ্জাবের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন ও স্বচ্ছ প্রশাসন সুনিশ্চিত করতে এবার বড় পদক্ষেপে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। সম্প্রতি জাগরাওঁ নির্বাচনী এলাকার কমলপুরা গ্রামে আয়োজিত এক সুবিশাল জনসভায় উপস্থিত হয়ে পঞ্চায়েতের হাতে সরাসরি ৫১ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক ফান্ড তুলে দেন তিনি। সেখানে আয়োজিত জনসভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পান বিপুল সম্বর্ধনা। সভা মঞ্চ থেকে রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন যেমন তুলে ধরেন, তেমনই আকালি দল, কংগ্রেস ও বিজেপিকে নিশানা করে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী।
জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান বার্তা
কমলপুরা গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে ভগবন্ত মান জানান, এই গ্রামে ইতিপূর্বে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সরাসরি পঞ্চায়েতের অ্যাকাউন্টে ফান্ড: গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতে ৫১ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, এই অর্থ পুরোপুরি সাধারণ মানুষের।
স্বচ্ছতার সাথে অর্থ খরচ: গ্রামে অবিলম্বে গ্রামসভা ডেকে পুকুর সংস্কার, ইন্টারলক টাইলস বসানো কিংবা গ্রামবাসীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনকল্যাণমূলক কাজে এই টাকা স্বচ্ছভাবে খরচ করার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতির অবসান: আগের সরকারগুলির জমানায় ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলে কাটমানি ও লোকসানের কারণে মাত্র ৩০-৩৫ হাজার টাকা পৌঁছাত বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান আমলে সেই দুর্নীতি রুখে সরাসরি জনগণের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে।
মাদক পাচার ও মাজিথিয়া ইস্যুতে তোপ
রাজ্যে মাদক সমস্যা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময়ের খেলাধুলা, কুস্তি ও বীর সেনাপতিদের জন্য বিখ্যাত পাঞ্জাবকে পূর্ববর্তী সরকারগুলি মাদকের চোরাবালিতে ঠেলে দিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এই নিয়ে আপস করবে না। বিক্রম সিং মাজিথিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে ৪০,০০০ পৃষ্ঠার শক্তিশালী অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং কোনো প্রভাবশালীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বাদল পরিবার ও বিরোধী শিবিরকে কটাক্ষ
আকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদলকে কটাক্ষ করে ভগবন্ত মান বলেন, নিজেকে কৃষকের সন্তান দাবি করলেও বাস্তব কৃষি বা আখ চাষের মতো বিষয়ে তাঁর কোনো ন্যূনতম ধারণাই নেই। পাশাপাশি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তুলে ধরে রাজা ওয়ারিং, চরণজিৎ সিং চান্নি, সুখজিন্দর সিং রান্ধাওয়া, প্রতাপ সিং বাজওয়া ও নবজ্যোত সিং সিধুর মধ্যকার মতপার্থক্যকে এক হাত নেন তিনি।