ফেসবুকে প্রেমে ফেঁসে ল্যান্ডমার্কে বিলাসিতা, সল্টলেকের নামী হোটেলে লাঞ্চের ছলে ছাত্রীকে সর্বনাশ করল জিএসটি ইন্সপেক্টর!

ফেসবুকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক যে এত বড় সর্বনাশের রূপ নেবে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কলকাতার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী এক আইনের ছাত্রী। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি, সল্টলেকের বিলাসবহুল হোটেলে জোরপূর্বক নির্যাতন, গোপন মুহূর্তের ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেইলিং এবং মোবাইল হ্যাকিংয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এবার বাগুইআটি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই যুবতী। কাঠগড়ায় দুর্গাপুরে কর্মরত জিএসটি ইন্সপেক্টর দীপায়ন রায় ও তাঁর পরিবার।

পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২৪ সালে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে অভিযোগকারী ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় অভিযুক্ত দীপায়ন রায়ের। পরিচয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যুবতীর দাবি, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দীপায়ন তাঁকে বারবার হোটেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তখন রাজি না হলেও, পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট লাঞ্চ করার অজুহাতে যুবতীকে সল্টলেকের একটি পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে যান ওই সরকারি আধিকারিক। সেখানেই জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ।

নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য যুবতীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন দীপায়ন এবং বিশ্বাস জেতার জন্য তাঁকে একটি দামি হিরের আংটিও উপহার দেন। কিন্তু ঘটনার মারাত্মক মোড় ঘোরে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের পর থেকে। অভিযোগ, হঠাৎ করেই ওই যুবতীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন অভিযুক্ত জিএসটি ইন্সপেক্টর। ফোন ধরা বন্ধ করে দেওয়া থেকে শুরু করে সম্পর্কের ইতি টানার চেষ্টা করেন। যুবতী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পাবলিক প্লেসে তাঁর সম্মানহানি করা হয় এবং অভিযোগ জানাতে গেলে অভিযুক্তের মা-ও ওই যুবতীর ওপর চড়াও হন।

অভিযোগ আরও মারাত্মক হয়ে ওঠে যখন ওই ছাত্রী জানান, তাঁদের কিছু গোপন ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তুলে রাখা হয়েছিল, যা দিয়ে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। কোনো উপায় না দেখে অবশেষে বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। পুলিশ অভিযুক্ত জিএসটি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩টি গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে যুবতীর দাবি, থানায় অভিযোগ জানানোর পর থেকেই তাঁকে রাস্তায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর মোবাইল হ্যাক করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে অভিযুক্ত দীপায়ন ও তাঁর মা দুজনেই পলাতক, তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।