প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের মাঝেই অলৌকিক ঘটনা! রাজ্যজুড়ে জন্ম নিল ১ হাজার শিশু!

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর মহাতাণ্ডবে যখন গোটা রাজ্য লণ্ডভণ্ড, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী থাকল ওড়িশা। চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ধ্বংসলীলা ও জীবনহানির আশঙ্কার মাঝেই রাজ্যের বিভিন্ন নিরাপদে স্থানান্তরিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নিল এক হাজারেরও বেশি শিশু। দুর্যোগের আঁধার চিরে আলো ফুটিয়ে এই সদ্যোজাতদের আগমন যেমন পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তেমনই তাদের রাখা অদ্ভুত ও বৈচিত্র্যময় নাম ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আগাম সতর্কতা জারি হতেই ওড়িশা প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে উপকূলবর্তী অঞ্চলের সমস্ত অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন, রাজ্যের মোট ২,২৪৫ জন প্রসূতিকে আগেভাগে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর ঝড় চলাকালীনই ৯৩১ জন প্রসূতি সন্তান প্রসব করেন। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, মা এবং সদ্যোজাত সন্তান—সকলেরই শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত স্থিতিশীল ও তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।

তবে সবচেয়ে অবাক করার মতো ঘটনা ঘটেছে শিশুদের নামকরণ নিয়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেক পরিবারই নিজেদের সন্তানের নাম রেখেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নামে। ছেলেদের নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, ‘তুফান’ কিংবা ‘পবন’। অন্যদিকে কন্যাসন্তানদের নাম রাখা হয়েছে ‘বর্ষা’, ‘বাতাসি’ কিংবা ‘বর্ষারানি’। এমনকি হাসপাতালের বার্থ সার্টিফিকেটেও এই নামগুলো নথিভুক্ত হতে দেখে তাজ্জব বনে গেছেন চিকিৎসকরাও।

উল্লেখ্য, ‘অর্ণব’ নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। বাংলা ভাষায় এর অর্থ ‘সমুদ্র’ বা ‘সাগর’। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের পূর্বনির্ধারিত নিয়ম মেনেই পর্যায়ক্রমিক তালিকা থেকে এই নামকরণ করা হয়েছিল। ধ্বংসলীলার মাঝে জন্ম নেওয়া এই শিশুরা এখন ওড়িশায় জীবনের নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।