ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড রাজ্য! মৃতদের পরিবারকে ৫ লাখ, দোকান-গাড়ির ক্ষয়ক্ষতিতেও বড় আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তাণ্ডবে তছনছ অন্ধ্রপ্রদেশ। ফসল, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো। এই দুর্যোগের মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির শিকার প্রতিটি মানুষ যাতে উপযুক্ত ও ন্যায্য সাহায্য পান, তার সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‘আগে থেকেই ছিল প্রস্তুতি, কমানো গেছে প্রাণহানি’
সচিবালয়ের আরটিজিএস (RTGS) সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও গতিপথ আগে থেকেই অনুমান করা হয়েছিল। গত তিন দিন ধরে টানা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয় এবং অফিসারদের প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “প্রাণহানি কমানো এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। আগের ঘূর্ণিঝড়গুলোর তুলনায় এবার ক্ষয়ক্ষতি অনেক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।” এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সবরকম সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থলভাগ পেরোলেও বৃষ্টির তাণ্ডব, ৪ জেলায় কড়া সতর্কতা
রাত ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ ‘অর্ণব’ অন্ধ্রপ্রদেশের স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর দিকে এগিয়ে যায়। তবে ঝড় কেটে গেলেও শ্রীকাকুলাম, আল্লুরি সীতারামারাজু, পার্বতীপুরম মান্যম এবং অনাকাপল্লী—এই চার জেলায় এখনও ভারী বৃষ্টি চলছে। বাসিন্দাদের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও উদ্ধারকাজের তাজা আপডেট
ঝড়ের দাপটে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কাজ চালাচ্ছেন কর্মীরা। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায় উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও, বাকি অঞ্চলগুলোতে দ্রুত গতিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর কাজ চলছে।
কোন খাতে কত ক্ষতিপূরণ? তালিকা দেখে নিন এক নজরে:
সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে—
নিহতদের পরিবার: ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারকে দেওয়া হবে ৫ লাখ টাকা করে।
ভাঙা ঘরবাড়ি ও ত্রাণ শিবির: ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মিলবে ১০ হাজার টাকা। ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি জন পিছু ১,০০০ টাকা (পরিবার পিছু সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা) সাহায্য দেওয়া হবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ: ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকান বা রেস্তোরাঁগুলোকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
MSME শিল্পক্ষেত্র: টার্নওভারের ভিত্তিতে সাহায্য করা হবে—
৪০ লাখ টাকার কম টার্নওভার: ৫০ হাজার টাকা
৪০ লাখ থেকে ১.৫ কোটি টাকা টার্নওভার: ১ লাখ টাকা
১.৫ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার: ১.৫ লাখ টাকা
গাড়ি মালিক ও চালক: দু-চাকার গাড়ির ক্ষতির জন্য ৩ হাজার টাকা এবং তিন-চাকার (অটো/টোটো) গাড়ির জন্য ১০ হাজার টাকা মিলবে।
মৎস্যজীবী ও নৌকা: মাছ ধরার নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ৯ হাজার টাকা, জাল সারানোর জন্য ৫ হাজার টাকা এবং জালসহ নৌকা নষ্ট হলে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।