১০ বছর নরক যন্ত্রণা! মাসে ২৫ বার মাইগ্রেন অ্যাটাক, দিল্লির ডাক্তারের এক ম্যাজিক সার্জারিতে মিলল মুক্তি

মাইগ্রেনের যন্ত্রণা যাদের রয়েছে, তাঁরাই বোঝেন এর তীব্রতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। সামান্য আলো বা একটু শব্দও তখন অসহ্য মনে হয়। ঠিক এমনই এক নারকীয় যন্ত্রণা নিয়ে দীর্ঘ ১০টি বছর কাটিয়েছেন এক রোগী। টানা এক দশক ধরে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ বার মাইগ্রেনের তীব্র আক্রমণের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিল্লির বিখ্যাত স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের চিকিৎসকদের হাত ধরে এক নতুন জীবন পেলেন তিনি।
চিকিৎসা সত্ত্বেও মিলছিল না স্বস্তি
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভারতের একাধিক প্রখ্যাত চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন ওই রোগী, সেবন করেছেন বিপুল পরিমাণ ওষুধ। তবে সাময়িক উপশম মিললেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো মুক্তি পাচ্ছিলেন না তিনি। এর ফলে তার দৈনন্দিন জীবনচর্চা, পারিবারিক কাজ ও কর্মজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ওষুধের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সত্ত্বেও প্রতি মাসে ডজন ডজন অ্যাটাক তার জীবনকে বিষাদময় করে তুলেছিল।
যেভাবে ধরা পড়ল আসল সমস্যা
অবশেষে স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানকার প্রখ্যাত প্লাস্টিক সার্জন ডঃ স্বরূপ সিং গম্ভীরের অধীনে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। ডাক্তার গম্ভীর ও তাঁর টিম রোগীর স্নায়বিক বিন্যাস পরীক্ষা করে কানের আশপাশে এবং মাথার পেছনের অংশে বিশেষ কিছু সংবেদনশীল বিন্দু (Trigger Points) চিহ্নিত করেন। দেখা যায়, সেখানে স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণেই মূলত প্রতিবার এমন তীব্র মাইগ্রেনের অ্যাটাক হচ্ছিল।
অস্ত্রোপচারেই অলৌকিক সমাধান
সমস্যা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে চিকিৎসকরা ‘এন্ডোস্কোপিক সার্জারি’ (Endoscopic Surgery)-র সিদ্ধান্ত নেন। সুনির্দিষ্ট অপারেশনের মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর থাকা ওই অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ কমিয়ে আনা হয়।
এই আধুনিক সার্জারির পর রোগীর ১০ বছরের পুরোনো মাইগ্রেনের কষ্ট একপ্রকার অলৌকিকভাবেই কেটে গেছে। চিকিৎসকরা জানান, যেসব ক্রনিক রোগী দীর্ঘদিন ধরে ভারী ওষুধ খেয়েও মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিশেষায়িত সার্জারি ভবিষ্যতে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।