“একই গাড়িতে ঘোরা, ডুয়েট গান গাওয়া… ও একা খায়নি!” ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হতেই মমতার বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন শুভেন্দু

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের তারকা নেতা ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! আর এই গ্রেফতারির পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে বিস্ফোরক আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ইন্দ্রনীলের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু সাফ জানান— এটি আসলে “আন্টি আর বেবির যৌথ লড়াই, যৌথ ভেঞ্চার!”

বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ইন্দ্রনীল সেনের এই গ্রেফতারি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে।

“ও একা খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে!”

তৃণমূল সুপ্রিমোর দিকে সরাসরি আঙুল তুলে শুভেন্দু অভিযোগ করে বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদত কিংবা বড় কোনো হাত থাকতে পারে এতে। ও (ইন্দ্রনীল) তো একা খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে! ওঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন, একসঙ্গে মঞ্চে গান গাইতেন।”

দুই নেতার অতীতের সংগীতচর্চার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু কটাক্ষের সুরে বলেন, “শেষ গানটাও তো আমরা শুনেছি, দু’জন একসঙ্গে ডুয়েট গেয়েছিলেন— ‘আমার বিদায়ের সময় হলো, দাও বিদায়…’! দু’জন মিলেই তো এসব করেছেন।”

‘শিল্পীদের ঘাম বেঁচেও টাকা তুলেছেন’— চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তালিকা তুলে ধরে বিরোধী দলনেতা আরও বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন:

  • তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকা: নিজের স্ত্রীর নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা খুলে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইন্দ্রনীল।

  • শিল্পী ও গায়কদের শোষণ: অন্য সাধারণ শিল্পী ও গায়কদের কষ্টের উপার্জন এবং ঘাম থেকেও টাকা নিংড়ে নেওয়া হতো।

  • সিঙ্গুরে খামারবাড়ি: দুর্নীতি ও অসাধু উপায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সিঙ্গুরে বিশাল খামারবাড়ি বানিয়েছেন তিনি।

“সিপিএমের ‘ব্লু-আইড বয়’ থেকে বিজেপির দরজা ধাক্কানো”

ইন্দ্রনীল সেনের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের কঙ্কাল বের করে শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, বাম জমানাতেও শাসকদলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পরম প্রিয় ছিলেন এই নেতা। সিপিএমের এক শীর্ষ নেতার মেয়ের এনজিও-র সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর ইন্দ্রনীল সেন বিজেপির সঙ্গেও সখ্য গড়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং মাঝে মাঝেই কেন্দ্রের প্রশংসা করা শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিরোধী দলনেতার স্পষ্ট বার্তা, “বিজেপির দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ। বিজেপি অন্য দল, এখানে এসব দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই হবে না। উনি রক্ষাকবচ পেতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিলেন, কিন্তু আদালত তা খারিজ করায় আইন নিজের পথেই হেঁটেছে।”