‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর নজিরবিহীন পদক্ষেপ! মোদী সরকারের জরুরি আমন্ত্রণে কাঁপছে পাকিস্তান?

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম পাকিস্তানের এক শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানাল নয়াদিল্লি। সীমান্ত পেরিয়ে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বদলা হিসেবে ভারতের সেই ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মারাত্মক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই বরফ জমতে থাকা সম্পর্কেই এক বড়সড় কূটনৈতিক মোড় নিয়ে এলো মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ। আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর প্রথম ‘সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরাম’। এই হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যই ইসলামাবাদে সরকারি আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে ভারত।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের ন্যাশনাল হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার মন্ত্রী আউরঙ্গজেব খান খিচি-কে (Aurangzeb Khan Khichi) এই বিশ্বমঞ্চের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ায় পাক প্রতিনিধি শেষ পর্যন্ত দিল্লির মাটিতে পা রাখবেন কি না, তা নিয়ে এখনও জল্পনা তুঙ্গে। এর আগে তাজিকিস্তানের দুশানবেতে আয়োজিত SCO-র বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই ফোরামটির রূপরেখা প্রকাশ করেন। পাক উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের উপস্থিতিতেই রাজনাথ সিং অত্যন্ত কড়া ভাষায় বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানান, “সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কোনো দ্বিমুখী নীতি সহ্য করা হবে না। যারা জঙ্গিদের আশ্রয় বা অর্থ দেয়, তাদের কড়া হাতে বিনাশ করতে হবে।”
মূলত ২০২৫ সালে চিনের তিয়ানজিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জোরদার করতেই এই ফোরাম গঠন করা হয়েছে। তবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এটি একটি বহুপাক্ষিক জোটের সাধারণ প্রোটোকল, এটাকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ বদল হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তবুও ভারতের মাটিতে পাক মন্ত্রীর আগমন ঘটবে কি না, তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে পারদ চড়ছে।