পেট্রোলে ২০% ইথানল মেশানো নিয়ে কোটি কোটি টাকার ষড়যন্ত্র! আসল সত্য ফাঁস করলেন খোদ নিতিন গডকরি?

পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো (E20 Fuel) নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক ও বিরোধিতার ঝড় উঠেছিল, তা কোনো স্বাভাবিক জনরোষ ছিল না; বরং তা ছিল স্বার্থান্বেষী মহলের ‘টাকা দিয়ে চালানো স্পন্সরড অপপ্রচার’। মঙ্গলবার নিউ দিল্লিতে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII) আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরি।
তিনি স্পষ্ট জানান, গত কয়েক মাস ধরে ই২০ ফুয়েল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন খারাপ হওয়া এবং মাইলেজ কমে যাওয়ার যে খবর চাউর করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল। বর্তমানে সেই বিভ্রান্তি কাটিয়ে সাধারণ মানুষ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির সুবিধা বুঝতে পেরেছেন এবং এর বিরুদ্ধে ওঠা সুর এখন পুরোপুরি শান্ত।
ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়:
কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মোটর যান আইন, ১৯৮৯ সংশোধনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানলে (E100) চলতে সক্ষম ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ (Flex-Fuel) যানবাহন চলাচলের আইনি পথ সুগম হয়েছে। অনুষ্ঠানে গডকরি উল্লেখ করেন যে, ভারত বিপুল পরিমাণ কঁচা তেল আমদানি করতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় করে। পেট্রোলে ইথানল মেশানোর হার বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে ফ্লেক্স-ফুয়েল চালিত যানবাহন ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা ভারতের অর্থনীতিকে বিপুল সমৃদ্ধি দেবে।
হাইওয়ে সংস্কারে কড়া গডকরি:
ইথানলের পাশাপাশি দেশের জাতীয় সড়কগুলির মান নিয়েও নিজের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিভিন্ন মহাসড়কের বেহাল দশা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের অসংখ্য অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি সম্প্রতি প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০টি চলতি সড়ক প্রকল্পের কাজ পর্যালোচনার জন্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ঠিকাদার ও আধিকারিকদের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি হাইওয়ের মানের সাথে কোনো রকম আপস করব না।” একই সাথে তিনি আশ্বাস দেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সমস্ত হাইওয়ে পুরোপুরি মসৃণ হবে এবং নিত্যযাত্রীদের কোনো চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হবে না।