প্রেমে পড়ার ‘অপরাধ’! প্রেমিক ও তাঁর বাবাকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ

প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার জেরে চরম অমানবিক ও নৃশংস এক ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমার বেহালা। সরশুনা থানা এলাকার বসুন্ধরা পার্ক চত্বরে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর নেমে এল মধ্যযুগীয় বর্বরতা। অভিযোগ, তরুণীর পরিবারের সদস্যরা ওই যুবক ও তাঁর বাবাকে কেবল অকথ্য নির্যাতনই করেননি, বরং তাঁদের নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটাতে বাধ্য করেছেন! এই পৈশাচিক ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল বেহালার বসুন্ধরা পার্কে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই এলাকার এক তরুণী ও যুবকের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে এই সম্পর্ক কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হয়নি। অভিযোগ, গত রবিবার রাতে রাস্তার ধারে দু’জনকে একসঙ্গে গল্প করতে দেখা মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তরুণীর বাড়ির লোকজন। এরপর জোর করে ওই তরুণকে নিজেদের বাড়িতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন ওই যুবকের বাবাকেও সেখানে ডেকে পাঠানো হয়। এলাকাবাসীর বিস্ফোরক অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে আটকে রেখে তরুণের বাবাকে বন্দুক দেখিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং ছেলের সামনেই তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তরুণীর মা নিজহাতে তরুণীর বাবার হাতে একটি ধারালো ছুরি তুলে দেন বলে অভিযোগ।
বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটার চরম লাঞ্ছনা
অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। স্থানীয়দের দাবি, বন্দুকের নলের মুখে ও প্রাণের ভয়ে ওই যুবকের বাবাকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা বিবস্ত্র বা নগ্ন অবস্থায় হেঁটে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। একইসঙ্গে ওই তরুণ এবং তাঁর বাবাকে সর্বসমক্ষে চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এই পৈশাচিক নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি সরশুনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ঠিক কী কারণে এই নির্মম নির্যাতন চালানো হলো এবং অভিযোগের নেপথ্যে আসল সত্য কী, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন সম্পূর্ণ পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।
বিঃদ্রঃ খবরে ব্যবহৃত ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত