সকালে ব্রেকফাস্টে রোজ দুধ-কলা খাচ্ছেন? অজান্তেই শরীরের কী মারাত্মক ক্ষতি করছেন জানেন?

সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা ব্রেকফাস্টের টেবিলে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দুধ ও কলা খাওয়ার অভ্যাস বহু মানুষের রয়েছে। কেউ জিম করার পর পেশি গঠনে জোর দিতে কলার সঙ্গে দুধ মিশিয়ে মিল্কশেক পান করেন, আবার কেউ ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে এই দুই পুষ্টিকর উপাদান একসঙ্গে গ্রহণ করেন। ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ফাইবারে ভরপুর এই জোড়া খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলেই প্রচলিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অত্যন্ত জনপ্রিয় এই দুই খাবার একসঙ্গে খাওয়া কি আদৌ স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ, নাকি শরীরের ভেতরে বড় কোনো ক্ষতি ডেকে আনছে?

পুষ্টিবিজ্ঞান অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে কলা ও দুধ একসঙ্গে খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। বিশেষ করে যাঁরা ওজন বাড়াতে চান বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের জন্য এই খাদ্যতালিকা বেশ কার্যকর। কলায় থাকা কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার এবং দুধের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম যৌথভাবে শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটায়। তা সত্ত্বেও, এই দুই উপাদানের সংমিশ্রণ সবার শরীরের সঙ্গে সমানভাবে মানিয়ে নেয় না। যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দুধ পেটে গেলেই গ্যাস, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো অস্বস্তিকর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এছাড়া কলার মিল্কশেকের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, মধু বা আইসক্রিম মেশানো হলে ক্যালরির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অনেকেরই ধারণা রয়েছে যে দুধ ও কলা একসঙ্গে খেলে নাকি শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণার পক্ষে কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অধিকাংশ মানুষের শরীরেই এই দুই খাবার কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। তবুও যদি কারো ক্ষেত্রে এই মিশ্রণ খাওয়ার পর বদহজম বা পেটে অস্বস্তি অনুভূত হয়, তবে একসঙ্গে না খেয়ে দুটি খাবার আলাদা সময়ে খাওয়া শ্রেয়। সবশেষে, শরীরের বিপাক হার, হজম ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা বুঝে ডায়েট চার্ট তৈরি করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।