“লার্নার্স লাইসেন্স পাওয়া এবার আরও কঠিন!”-ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়মে বিরাট বদল আনছে কেন্দ্র!

২০২৬ সাল শেষের আগেই দেশের কোটি কোটি গাড়িচালকের জন্য বড়সড় সুখবর ও নির্দেশিকা আনতে চলেছে কেন্দ্র। ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence) সংক্রান্ত নিয়মে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা ভাবছে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। নতুন এই নিয়মগুলি কার্যকর হলে লাইসেন্স পাওয়া বা নাম-ঠিকানা পরিবর্তনের ঝামেলা যেমন অনেকটাই কমবে, তেমনই লাইসেন্স প্রক্রিয়া হবে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল।

লাইসেন্সের রঙ ও ফরম্যাটে বড় বদল

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, এবার থেকে লাইসেন্স ইস্যু বা রিনিউ করার ক্ষেত্রে তা ল্যামিনেটেড কার্ড বা পিভিসি (PVC) কার্ড আকারে দেওয়া হবে (এর জন্য ফর্ম ৭ ব্যবহার করা হবে)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতীয় নাগরিক এবং বিদেশি নাগরিকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আলাদা ফরম্যাট এবং ভিন্ন রঙের কার্ড রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে সহজেই দুইয়ের মধ্যে ফারাক বোঝা যায়। পাশাপাশি, লাইসেন্সে রক্তদলের (Blood Group) বিবরণ, মোবাইল নম্বর এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য (Emergency Contact) উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

ঠিকানা ও বয়সের প্রমাণে নতুন নথি

মন্ত্রকের প্রস্তাব অনুযায়ী, বয়স ও ঠিকানার প্রমাণের নিয়মেও বদল আসছে। জালিয়াতি রোধ এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে কিছু ক্ষেত্রে হলফনামা বা জীবন বীমা পলিসিও চাওয়া হতে পারে। পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে মান্যতা পেতে চলেছে—

  • আধার কার্ড, পাসপোর্ট ও ভোটার আইডি কার্ড

  • ই-রেশন কার্ড এবং বার্থ সার্টিফিকেট

  • কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সার্ভিস আইডি কার্ড

  • পেনশনভোগী বা মুক্তিযোদ্ধা ফটো পরিচয়পত্র

  • অন্তত তিন মাস আগের বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগের বিল

লার্নার্স লাইসেন্স পাওয়া কি কঠিন হচ্ছে?

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপদে গাড়ি চালনা সংক্রান্ত অনলাইন টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য পাস মার্কস ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া এই অনলাইন টিউটোরিয়ালের সময়সীমা অন্তত ৩০ মিনিট করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, এই মুহূর্তে কেন্দ্র কেবল একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে। বিভিন্ন মহলের মতামত ও পরামর্শ নেওয়ার পরেই এই নিয়মগুলি চূড়ান্তভাবে রূপায়িত হবে। ততদিন পর্যন্ত পুরানো নিয়ম ও প্রক্রিয়াই বহাল থাকছে।