মা লক্ষ্মীর কৃপা পেতে ভুলেও করবেন না এই ৬টি ভুল! অজান্তেই ঘরে ডেকে আনছেন দারিদ্র্য?

ধনসম্পদ, সমৃদ্ধি এবং সুখ-শান্তি বজায় রাখতে হিন্দু ধর্মে মা লক্ষ্মীর আরাধনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কোজাগরী পূর্ণিমা থেকে শুরু করে দীপাবলি—সারা বছরই বিভিন্ন সময়ে ঘরে ঘরে চলে ধনদেবীর পুজো। শাস্ত্রমতে, দেবী লক্ষ্মী অত্যন্ত চঞ্চলা স্বভাবের, তিনি এক জায়গায় বেশিক্ষণ স্থির থাকেন না। যেখানে পবিত্রতা, শৃঙ্খলা ও ভক্তি রয়েছে, সেখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বাস করেন। অন্যদিকে, অপরিচ্ছন্নতা ও কলহপূর্ণ পরিবেশ থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন।
তাই মা লক্ষ্মীর কৃপাদৃষ্টি পেতে এবং সাংসারিক সুখ-শান্তি বজায় রাখতে পুজোর সময় কিছু বিশেষ নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। অজান্তে হওয়া কিছু ছোট ভুলেই অসন্তুষ্ট হতে পারেন ধনদেবী, যার ফলে লেগ থাকতে পারে অর্থকষ্ট ও পারিবারিক অশান্তি।
লক্ষ্মী পুজোয় যে ৬টি ভুল ভুলেও করবেন না:
১. নোংরা বা অপরিষ্কার ঘরে পুজো: দেবী লক্ষ্মী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত পছন্দ করেন। যে বাড়িতে ধুলো-ময়লা বা এঁটো বাসন পড়ে থাকে, সেখানে তিনি ককখনও প্রবেশ করেন না। তাই পুজোর দিন ঘরবাড়ি, বিশেষ করে ঠাকুরঘর এবং মূল দরজার আশপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখুন ও গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করুন।
২. লোহার বা স্টিলের বাসন ব্যবহার: লক্ষ্মী পুজোয় ভুলেও লোহা বা স্টিলের তৈরি বাসন ব্যবহার করবেন না। লোহাকে শনিদেবের প্রতীক হিসেবে মানা হয়, যা দারিদ্র্য ও বাধার কারক। পুজোর ভোগ, প্রদীপ বা ঘটের ক্ষেত্রে সর্বদা পিতল, কাঁসা, তামা বা মাটির বাসন ব্যবহার করুন।
৩. ভুল রঙের পোশাক নির্বাচন: পুজোয় কালো, সাদা বা নীল রঙের পোশাক পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। কালো রঙ অশুভ শক্তির প্রতীক। তাই পুজোয় লাল, হলুদ, গোলাপি বা কমলা রঙের পোশাক পরার চেষ্টা করুন, কারণ লাল রঙ মা লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয়।
৪. ভুল করেও তুলসী পাতা নিবেদন নয়: অনেকেই না বুঝে লক্ষ্মীপুজোয় তুলসী পাতা নিবেদন করেন, যা এক মারাত্মক ভুল। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মা লক্ষ্মী তুলসীকে গ্রহণ করবেন না বলে বর দিয়েছিলেন। তাই লক্ষ্মী পুজোয় তুলসী পাতা বর্জন করুন। এর পরিবর্তে পদ্মফুল, গোলাপ বা গাঁদা ফুল নিবেদন করুন।
৫. পুজোর দিন ঝগড়া-অশান্তি: যে পরিবারে বা গৃহে সর্বদা কলহ, চিৎকার কিংবা কটু কথা বলা হয়, সেখানে মা লক্ষ্মী স্থায়ী হন না। পুজোর দিন বাড়ির পরিবেশ শান্ত ও পবিত্র রাখুন। কাউকেই অপমান করা থেকে বিরত থাকুন।
৬. প্রদীপ নিজে থেকে নিভতে দেওয়া: পুজো চলাকালীন প্রদীপ বা ধূপকাঠি নিজে থেকে নিভে যাওয়া অত্যন্ত অশুভ সংকেত। পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রদীপ যেন প্রজ্বলিত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পুজো শেষে কখনও ফুঁ দিয়ে প্রদীপ নেভাবেন না; হাত দিয়ে বাতাস করে বা ফুল দিয়ে তা নেভাতে হয়।
মা লক্ষ্মীর কৃপা পেতে এবং সংসারে স্থায়ী সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই নিয়মগুলি মেনে চলা প্রতিটি গৃহস্থেরই কর্তব্য।