‘দেশপ্রেম নিয়ে জ্ঞান দেবেন না!’ বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে কেন্দ্রের কড়া সমালোচনায় প্রাক্তন IPS নেতা

কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া পদক্ষেপ এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ দমনের তীব্র নিন্দা করে ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছেন কে আন্নামালাই। আর এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি অভিজিৎ দীপকের সিজেপিকে সমর্থন করতে চলেছেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি? জল্পনা তুঙ্গে উঠতেই অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন খোদ আন্নামালাই। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর এই মন্তব্যকে যেন কোনওভাবেই অভিজিৎ দীপকের সিজেপির প্রতি সমর্থন হিসেবে না দেখা হয়।
বৃহস্পতিবার ‘উই দ্য লিডার্স’ আন্দোলনের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একদিকে যেমন কেন্দ্রের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন আন্নামালাই, তেমনই আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। পাশাপাশি, সিজেপির বিক্ষোভের নেপথ্যে থাকা মূল দাবিগুলির প্রতিও তিনি নিজের সমর্থনের কথা জানান।
‘আমাদের কর্মসূচি আলাদা’
বিতর্ক এড়াতে আন্নামালাই সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা কখনওই ককরোচ জনতা পার্টিকে সমর্থন করি না। ওদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আলাদা, আর আমাদের সম্পূর্ণ আলাদা।”
উল্লেখ্য, একসময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক। তবে চলতি বছরের শুরুতে বিজেপি ছেড়ে নিজস্ব রাজনৈতিক পথ চলা শুরু করেছেন তিনি। স্পষ্টভাষী মন্তব্যের জন্য পরিচিত আন্নামালাইয়ের মতে, গণতন্ত্রে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই স্বাধীনভাবে লড়াই করার সমান অধিকার রয়েছে।
সিজেপি বিক্ষোভ ও মোদীর প্রশংসা: এক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ
গত ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি-র বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন আন্নামালাই। আর তাতেই বিজেপির একাংশের রোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
বৃহস্পতিবার বিজেপিকে একহাত নিয়ে তিনি আরও বলেন, “দেশের অনেক রাজ্যে বসবাস করেছি, কাজও করেছি। ভারতের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে আমার স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। তাই দেশপ্রেম নিয়ে আমাকে নতুন করে কারও জ্ঞান দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।”
তিনি দাবি করেন, সিজেপি বিক্ষোভকারীরা যদি কোনও ভুল করে থাকেন, তবে প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব নিয়ে পদক্ষেপ না করে আইন মেনেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসায় তিনি বলেন, “মোদী একজন ভাল প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি দেশের জন্য ভাল কাজ করছেন।” তবে সেই সঙ্গেই তাঁর সংযোজন, “প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করলেও, আমরা যদি কোথাও কোনও ভুল দেখি, তবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পিছপা হব না।”
আন্নামালাই বনাম বিজেপি: বাড়ছে বাক্যুদ্ধ
দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে আন্নামালাইয়ের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, যা এখন প্রকাশ্য বাক্যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই আন্নামালাই মন্তব্য করেছিলেন যে সিজেপির কৌশলের সঙ্গে তিনি একমত নন এবং ওই সংগঠনের কৌশল ‘ভুল পথে পরিচালিত’। তবে সরকারের নীতির বিরোধিতা করার গণতান্ত্রিক অধিকার সকলেরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটকের তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবিরও। বিজেপির দাবি, অতীতে যিনি এসআইআর-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন, আজ পরিস্থিতি বদলাতেই তিনি সম্পূর্ণ উল্টো সুর গাইছেন। সবমিলিয়ে, আন্নামালাইয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে।