মাঝরাতে দিল্লি হাইকোর্টে হইচই! সৌরভ-আশুতোষের মুক্তি চেয়ে বড় পদক্ষেপ CJP-র

কক্‌রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ বার সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন দলীয় আইনজীবীরা। বিশেষ এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) তরফ থেকে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও SEM-এর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে দিল্লি হাইকোর্টের কড়া নাড়েন CJP-র আইনি প্রতিনিধিরা। এমনকী, আদালতের ছুটির আমেজের মধ্যেই রাতের বেলায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানির বিশেষ আর্জি জানানো হয়েছে। বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রির তরফে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে দলীয় আইনজীবীদের টিম।

CJP-র আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের বক্তব্য পেশ করে জানান, “সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আর এক মুহূর্তও বেআইনিভাবে জেলে আটকে রাখা উচিত নয়।” রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন তিনি। দলের আইনজীবীদের জোরালো দাবি, গত সোমবার বিশেষ এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তরফে যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে আইনগত দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ। হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো কিংবা জামিনদারদের আবেদন খারিজ করার পক্ষে পর্যাপ্ত ও যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আদালতের কাছে ছিল না বলেই দাবি করেছেন তাঁরা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ অক্টোবর। রাজধানীর ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে জোরপূর্বক প্রবেশ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে CJP নেতা সৌরভ ও আশুতোষকে পুলিশ আটক করেছিল। তার ঠিক এক দিন আগেই ওই নির্দিষ্ট এলাকাকে প্রশাসনের তরফে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেটের বেঞ্চের যুক্তি ছিল, গত ১১ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখার যে মুচলেকা বা বন্ড তাঁরা জমা দিয়েছিলেন, দুই নেতা তা সরাসরি লঙ্ঘন করেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে তাঁরা ফের শান্তিভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল আদালত। সেই সমস্ত পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিচার করেই তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, ধৃত দুই নেতার জামিনদারদের যোগ্যতা এবং নথিপত্র নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, একজনের পেশ করা জামিনদারের সরকারি নথির সঙ্গে আধার কার্ডের ছবির কোনো মিল নেই এবং এই অসঙ্গতি নিয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি। অন্য দিকে, অপর জামিনদার নেতা সৌরভ দাসের সঠিক আবাসিক ঠিকানা এবং পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে আদালতের কাছে কোনো প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য পেশ করতে ব্যর্থ হন। ফলস্বরূপ, তাঁদের আইনি জামিনদার হিসেবে গ্রহণ করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় এবং নতুন জামিনদারের বৈধ নথি দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, CJP-র আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি তুলে বলা হয়েছে যে, গত ১০ অক্টোবরের পর থেকে ওই দুই নেতা দলগতভাবে নতুন করে আর কোনো বিক্ষোভ বা আন্দোলনের ডাক দেননি এবং সেদিন তাঁরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে এই আইনি যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ হয়ে যায়। আগামী ২১ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যার দিকে বর্তমানে গোটা রাজনৈতিক মহলের নজর আটকে রয়েছে।