টেলিগ্রামে নির্দেশ পেতেই হামলা! কোচির নার্সারিতে নাশকতা কাণ্ডে ধৃতের ফোন খতিয়ে দেখছে এসআইটি

কেরালার কোচির এ্রণাকুলম মার্কেট এলাকায় একটি ঐতিহাসিক ইহুদি প্রার্থনাগারের (Synagogue) ঠিক পাশেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই নাশকতার ঘটনার সঙ্গে কোনো গভীর জঙ্গিযোগ বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে ধৃত অভিযুক্তের বাজেট হওয়া সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ফোন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। কোচির পুলিশ কমিশনার অরুণ কে. পবিত্রন শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর ভোরেই পুলিশ এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে বিন পল (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল। ধৃত ওই ব্যক্তি প্রতিবেশী পুথেনক্রুজের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচি সেন্ট্রাল থানার আওতাধীন এ্রণাকুলম বাজারের কাদুবুভাগম ইহুদি উপাসনালয়ের ঠিক সামনে অবস্থিত ‘ব্লসম নার্সারি’ নামের একটি দোকানে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীদের বড় সন্দেহ, অভিযুক্ত বিন পল সম্ভবত কোনো অদৃশ্য বা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট নির্দেশে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুতে পর্যায়ক্রমে হামলা চালিয়েছিল। শুধু তাই নয়, নাশকতার সেই সমস্ত ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং করে উপযুক্ত প্রমাণ হিসেবে নির্দেশদাতাদের কাছে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার বা পেমেন্ট পাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। গোয়েন্দা সূত্র মারফত আরও জানা গেছে যে, ধৃতের মোবাইল ফোনের চ্যাট ও মেসেজ খতিয়ে দেখে ভারতের বিভিন্ন প্রধান শহরের একাধিক ইহুদি প্রার্থনাগার এবং সেখানে সম্ভাব্য নাশকতামূলক হামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ মিলেছে।

এই বার্তা আদান-প্রদানের নেপথ্যে আসল কুশীলবরা কারা, ধৃতের সঙ্গে তাদের ঠিক কী ধরনের যোগসূত্র রয়েছে এবং এই অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি কোনো সুসংগঠিত নাশকতামূলক চক্রান্তের অংশ কি না, তা জানতে মুখিয়ে রয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি আদালত অভিযুক্ত পলকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে এসআইটি-র আধিকারিকরা তাকে ম্যারাথন জেরা করে সমস্ত রহস্যের জাল ভেদ করার চেষ্টা করছেন। কমিশনার পবিত্রন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, অপরাধের গভীরে পৌঁছাতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠিত হয়েছে। ধৃতের উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক গ্যাজেটগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষা চলছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশের বিশ্বস্ত সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে যে, অভিযুক্ত পল এবং তার এক সন্দেহভাজন হ্যান্ডলারের মধ্যে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’-এর মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ চ্যাট হয়েছিল। সেই মুছে ফেলা বা ডিলিট করা চ্যাটগুলি পুনরুদ্ধার করতে তৎপর হয়েছেন তদন্তকারীরা। এই কথোপকথনের বিস্তারিত ডিজিটাল ডেটা এবং লগ ফাইল চেয়ে খুব শীঘ্রই ‘টেলিগ্রাম’ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাচ্ছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে যে, গত বেশ কিছুদিন ধরে এক রহস্যময় ব্যক্তির সরাসরি নির্দেশে কাজ করছিল এই অভিযুক্ত। এদিকে, বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ রিমান্ডের শুনানির সময় অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে পল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং তার জন্য নিয়মিত ওষুধও খাচ্ছেন। তবে পুলিশের দাবি, ধৃত ব্যক্তি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। আদালতের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে তার আরও বিশদ শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা করানো হবে। এর পাশাপাশি, পলের বাসভবন থেকে তল্লাশি চালিয়ে হিরোইন, ফেন্টানিল, অক্সিকোডোন, আলপ্রাজোলাম এবং কেটামিনের মতো বেশ কিছু বিপজ্জনক মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা অনলাইনে অর্ডার করে আনিয়েছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।