ধ্রুব রাঠির গ্রেফতারি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানল! আসল সত্যটা জানলে চোখ কপালে উঠবে

উত্তরপ্রদেশের নয়ডা পুলিশ শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো বলে খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছিল যে জার্মানিতে বসবাসকারী জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে একাধিক ব্যবহারকারী একটি বিশেষ ভিডিও শেয়ার করে এই জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন যে ধ্রুব রাঠিকে নয়ডা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই গুঞ্জন মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের। পরবর্তীতে একটি জরুরি ফ্যাক্ট-চেক বিবৃতিতে নয়ডা পুলিশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল এবং বানোয়াট। নয়ডা পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে ধ্রুব রাঠিকে কোনোভাবেই গ্রেফতার করা হয়নি।
মূলত, এই সমস্ত ভুয়ো জল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল একটি পূর্ববর্তী ঘটনার রেশ ধরে। কিছুদিন আগেই জনপ্রিয় এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-স্থিত তাঁর বাসভবন থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, রবিবার এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল কারণ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি দিল্লিতে ১৪৪ ধারা বা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জন্তর-মন্তর এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এরপর দিল্লির পুলিশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরই ৩২ বছর বয়সি ওই ইউটিউবারকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়। তবে শর্ত ছিল যে তিনি ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বা নিষিদ্ধ এলাকায় কোনো ধরনের জমায়েতে অংশ নেবেন না।
কিন্তু সেই পুরানো ঘটনাকে আংশিকভাবে বিকৃত করে শুক্রবার নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধ্রুব রাঠির গ্রেফতারির ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। নয়ডা পুলিশ প্রশাসন ও গৌতম বুদ্ধ নগর কমিশনারেটের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেড থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যাচাই না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়াবেন না। কেউ যদি বারবার ভুয়ো খবর বা উসকানিমূলক গুজব ছড়াতে গিয়ে ধরা পড়েন, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই কড়া বার্তার পর আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়ো রটনা কিছুটা থিতিয়ে এলেও, অনলাইন দুনিয়ায় ভুল তথ্যের অবাধ বিস্তার নিয়ে ফের বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।