ব্রিকস সম্মেলনের মাঝেই বসছে সংসদ! কোন কৌশলে সংখ্যা গরিষ্ঠতা জোগাড়ে নামছে মোদী সরকার?

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভ ও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার জোরালো ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কেন্দ্র। চলতি মাসের শেষ দিকে এই বিশেষ অধিবেশন ডেকে একযোগে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল দুটি পেশ করা হতে পারে। একটি নির্ভরযোগ্য বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করার বিষয়ে বর্তমান শাসক শিবির যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অধিবেশনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ এপ্রিল বাজেট অধিবেশন চলাকালীন আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছিল কেন্দ্র। সেই ধাক্কা সামলে বাদল অধিবেশনে বিলগুলি পেশ করার পরিকল্পনা থাকলেও, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজনৈতিক আন্দোলন এবং এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে সংসদের মূল এজেন্ডা ব্যাহত হয়। ফলে সেই সময় বিল আনার উদ্যোগ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। বর্তমান লোকসভায় মোট সদস্যসংখ্যা ৫৪০। সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে হলে সংসদের উভয় কক্ষেই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন অপরিহার্য। যদিও লোকসভায় এনডিএ-র একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবুও এই বিলের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত করা বেশ বড়সড় চ্যালেঞ্জ।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের অন্দরে ফাটল ধরাতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া এনসিপিআই সাংসদদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের বেশ কিছু ছোট দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে সরকার। বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্বের জল্পনার মাঝেই তামিলনাড়ুর প্রভাবশালী দল ডিএমকের সঙ্গেও সরকারের তরফে যোগাযোগ চলছে বলে খবর। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্দরের সমীকরণ বদলে যাওয়ার সুযোগ নিয়েই এই সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন ১৩ অগস্ট শেষ হলেও তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোরোগ বা মুলতুবি করা হয়নি। দুই কক্ষের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি থাকলেও আনুষ্ঠানিক প্রোরোগেশন না হওয়ায় বিশেষ বৈঠক ডাকার পথ এখনও খোলা রয়েছে।

আসন্ন ২৬ ও ২৭ অক্টোবর সংবিধান সদনে দ্বাদশ ব্রিকস সংসদীয় ফোরামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। সেই আন্তর্জাতিক কর্মসূচির কথা মাথায় রেখেই অধিবেশনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিশেষ অধিবেশন ডাকার আগে সাধারণত এক সপ্তাহের নোটিস দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অন্যদিকে, উৎসবের আবহেও রাজধানীতে রাজনৈতিক বিরোধিতার পারদ চড়ছে। ষষ্ঠীর দিনও দিল্লিতে সিজেপি-র তিরঙ্গা যাত্রা এবং কংগ্রেসের ধারাবাহিক প্রতিবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। এই চরম রাজনৈতিক তরজা ও বিক্ষোভের আবহে যদি বিশেষ সংসদ বসে, তবে বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও কৌশল ঠিক কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের।