৭০% অন্ধত্ব জয় করে ইতিহাস গড়েছিলেন! কাজের মাঝেই নজিরবিহীন আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ শীর্ষ আদালত

সুপ্রিম কোর্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার রায় ও নির্দেশিকা অফিশিয়ালি ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে মর্মান্তিক এক পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড (AoR) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিশিষ্ট আইনজীবী ড. এন বিশাখামূর্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎই প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর এই আকস্মিক ও untimely প্রয়াণে গোটা বিচারব্যবস্থা ও আইনি মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর দায়ের করা বিশেষ মামলা এবং ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে আয়োজিত দিল্লিভিত্তিক প্রতিবাদ কর্মসূচির মামলার শুনানি চলছিল। ওই হাই-প্রোফাইল শুনানির সময় বেঞ্চে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে লড়াকু আইনজীবী ড. এন বিশাখামূর্তি। বিচারপতির বেঞ্চ থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নোটিস ও মৌখিক নির্দেশিকা জারি করা হলে তিনি এজলাসে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে তা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ওই দিন রাতে যখন সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মূল নির্দেশ আপলোড হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মারাত্মক হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি এবং দ্রুত তাঁর জীবনদীপ নিভে যায়।
এই মর্মান্তিক খবর তৎক্ষণাৎ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে অবহিত করা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব ও এই অপূরণীয় ক্ষতির কথা মাথায় রেখে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বিত ডিভিশন বেঞ্চ আপলোড হওয়া মূল আদেশের খসড়াতেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ শোকবার্তা সংযোজন করেন। রায়ের পাতায় উল্লেখ করা হয়, “এই নির্দেশ আপলোড করার সময় আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানতে পেরেছি যে, মাননীয় অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ডঃ বিশাখামূর্তি, যিনি এই মামলাগুলিতে ভারত সরকারের পক্ষে নোটিশ ও দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, দুর্ভাগ্যবশত হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে আমরা আইনজীবী সমাজ ও পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
উল্লেখ্য, ড. এন বিশাখামূর্তির জীবনের লড়াই ছিল এককথায় অনুপ্রেরণাদায়ক। জীবনের নানা প্রতিকূলতা এবং প্রায় ৭০ শতাংশ অন্ধত্বকে সম্পূর্ণরূপে জয় করে তিনি নিজের অদম্য জেদের জোরে ২০২৩ সালের প্রথম প্রচেষ্টাতেই অত্যন্ত কঠিন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড (AoR) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে গোটা দেশে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন। প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইনি পেশায় তাঁর এই সাফল্য বহু তরুণ আইনজীবীকে অনুপ্রাণিত করেছিল। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে মামলার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করার মুহূর্তেই তাঁকে চিরকালের মতো বিদায় নিতে হলো। এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য নতুন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মনোনীত করার উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ প্রয়োজনীয় আইনি সময়ও মঞ্জুর করেছে।